সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ যাত্রী নিহত ও ৩০ যাত্রী আহতের ঘটনায় জয়পুরহাট সদর থানায় চালক, হেলপার ও বাস মালিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন বাস রাস্তায় নামানো ও বেপরোয়া গতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে জয়পুরহাট সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) আমিরুল ইসলাম এ মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন, বাস চালক জয়পুরহাট পৌরসভার বিশ্বাসপাড়া মহল্লার জিয়াউর রহমান জিয়া (৩৫), অজ্ঞাত ঠিকানার হেলপার আরমান আলী (২৭), সুপারভাইজার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ধামাহার গ্রামের মতিয়ার (৩৫) ও বাস মালিক রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বান্ধাবাড়ী গ্রামের রাহেলা বেগম।
দুর্ঘটনার পর থেকে আসামিরা পলাতক রয়েছে। পুলিশের অভিযোগ, সরকারি আইন অমান্য করে ফিটনেস ও রুট পারমিটবিহীন এম পি পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাস শুক্রবার দুপুরে বেপরোয়া গতিতে বগুড়া থেকে জয়পুরহাটে যাওয়ার পথে বানিয়াপাড়ায় উল্টে খাদে পড়ে। এতে তিন শিশু ও পাঁচ নারী ঘটনাস্থলেই নিহত ও কমপক্ষে ৩০ যাত্রী আহত হন। বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জয়পুরহাট-বগুড়া সড়কে বগুড়া থেকে যাত্রীবাহী বাস ছাড়ার পর শিবগঞ্জের মোকামতলা থেকে জয়পুরহাটের পুনট বাজার পর্যন্ত বাস খুব ধীর গতিতে চলে। কিন্তু বাস ছাড়ার পৌনে দুই ঘণ্টা সময়ের মধ্যে জয়পুরহাট পৌঁছার বাধ্যবাধকতা থাকার কারণে কালাই পৌর সদরে পৌঁছার পর থেকে চালক বেপরোয়া গতিতে বাস চালায়। এই রেওয়াজ জয়পুরহাট-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে দীর্ঘদিনের নিয়মিত ব্যাপার।
জয়পুরহাট সদর থানার ওসি (তদন্ত) মমিনুল হক বলেন,‘বেপরোয়া গতিতে চালানোর ফলে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। বাসের আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তারা বিষয়টি নিশ্চিত হন।’
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে বগুড়া থেকে ছেড়ে আসা এম পি পরিবহন নামের যাত্রীবাহী বাস জয়পুরহাট সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া পুলিশ বক্সের কাছে উল্টে খাদে পড়ে। এতে ৮ জন নিহত ও ৩০ যাত্রী আহত হয়।
আরও পড়ুন: জয়পুরহাটে বাস খাদে পড়ে নিহত ৮








