কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদী থেকে মঙ্গলবার (১৬ এপ্রিল) সকালে চার বাংলাদেশি জেলেকে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) ধরে নিয়ে গেছে। নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের অভিযোগ, অপহৃত জেলেদের ছাড়তে মিয়ানমারের মুদ্রায় ২০ লাখ কিয়েট চেয়েছে বিজিপি।
নিখোঁজদের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ট্রলারমালিক আমান উল্লাহর মোবাইল ফোনে মিয়ানমারের একটি নম্বর থেকে কল আসে। এসময় অপহৃত জেলেদের ছাড়তে মুক্তিপণ চাওয়া হয়।
এ ব্যাপারে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার বাসিন্দা ট্রলারমালিক আমান উল্লাহ বলেন, ‘সকালে আমার এক ট্রলারে করে চার জেলে নাফ নদীতে মাছ ধরতে যায়। এর কিছুক্ষণ পর মিয়ানমার থেকে একটি স্পিডবোটে করে এসে একদল বিজিপি সদস্য অস্ত্রের মুখে জেলেদের জিম্মি করে ধরে নিয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ (মঙ্গলবার) সন্ধ্যায় মিয়ানমারের একটি নম্বর (৯৫৯২৫০৩৩০০৭৯) থেকে ফোন করে মগু নামে এক ব্যক্তি। সে দাবি করে, ২০ লাখ কিয়েট দিলে চার জেলেকে ছেড়ে দেবে। আর তা না দিলে জেলেদের ছাড়বে না। অপহৃত জেলেদের মিয়ানমারের মংডু মাংলা এলাকায় রাখা হয়েছে বলেও জানায় ওই ব্যক্তি।’
মঙ্গলবার সকালে সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ সংলগ্ন নাফনদী এলাকা থেকে ওই চার জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তারা হলেন– আজিম উল্লাহ মাঝি, মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, আবুল কালাম ও মোহাম্মদ হাসান। তারা সবাই টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ বাজার পাড়ার বাসিন্দা। এর মধ্যে মোহাম্মদ হাসান পুরানো রোহিঙ্গা। তিনি মিয়ানমার থেকে পালিয়ে এসে টেকনাফে আশ্রয় নেন।
ট্রলারটি বাংলাদেশের জলসীমানা অতিক্রম করে মাছ শিকার করছিল বলে জানিয়েছেন টেকনাফ–২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল ফয়সল হাসান খান। তিনি জানান, মাছ শিকারে যাওয়া বাংলাদেশি জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ ঘটনায় বিজিপির কাছে প্রতিবাদলিপি পাঠনোর প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার। তিনি ক্ষুদে বার্তায় জানান, এখনও (মঙ্গলবার রাত ৮টা) মিয়ানমার জেলেদের ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেনি।








