রাজধানীর সাভারের আশুলিয়ায় এক নারী পোশাক শ্রমিককে যৌন হয়রানির প্রতিবাদে ওই কারখানার ১৭ শ্রমিক অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। অভিযোগ পাওয়া গেছে, যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় উল্টো এই ১৭ শ্রমিককেও ছাঁটাই করা হয়েছে। এ ঘটনার মামলা করতে গেলে আশুলিয়া থানা মামলা নেয়নি বলে জানা গেছে।
সোমবার (২৯ এপ্রিল) সকালে তারা আশুলিয়ার ইউনিক এলাকার ডংলিয়ন কারখানার সামনে এ কর্মসূচি পালন শুরু করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় প্রেসক্লাবের সামনে শহীদ মিনার চত্বরে দুপুরের পর থেকে তারা এই কর্মসূচি শুরু করে।
অনশনরত শ্রমিকরা জানান, তারা ডংলিয়ন বিডি ফ্যাশন লি. কারখানায় কাজ করতেন। ওই কারখানার এপিএম জহিরুল দীর্ঘদিন যাবৎ নারী শ্রমিকদের যৌন হয়রানি করে আসছিল। গত মার্চ মাসের ১৮ তারিখে ওই এপিএম প্রকাশ্যে এক নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানি করে। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার চাইলে উল্টো ১৭ জন নারী শ্রমিককে শোকজ করে কারখানার মূল ফটকের সামনে ছবি টাঙিয়ে তাদের কাজ থেকে বিরত রাখা হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষের কাছে বিচার না পেয়ে যৌন হয়রানির শিকার ওই নারী শ্রমিক শিল্প পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। শিল্প পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত করে সত্যতা পেয়ে থানায় মামলা করার পরামর্শ দেন।
এদিকে শোকজ হওয়া ১৭ জন শ্রমিকসহ ডংলিয়নের শ্রমিকরা গত শনিবার কারখানার সামনে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন শুরু করে। পরে শিল্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আগামীকালের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিলে শ্রমিকরা অনশন প্রত্যাহার করে নেন। তবে আশ্বাসের একদিন পার হয়ে গেলেও বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় শ্রমিকরা সোমবার সকাল থেকে ফের কারখানার সামনে অবস্থান নিতে গেলে শিল্প পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়।
অনশনরত শ্রমিকরা অভিযোগ করে বলেন, ‘অন্যায়ভাবে তাদেরকে কাজ থেকে বিরত রেখেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এপিএমের বহিষ্কার চাইলেও কর্তৃপক্ষ তাকে বহিষ্কার না করে কৌশলে একই কারখানার অন্য ইউনিটে দায়িত্ব দিয়ে চাকরিতে পুনবর্হাল রেখেছে। এছাড়াও কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার রফিক বিভিন্ন সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা। শ্রমিকরা এপিএমের বহিষ্কার ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানান।
যৌন হয়রানির শিকার ওই পোশাক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, ‘কারখানার এপিএমের বিচার চাওয়ায় তার সহকর্মী ১৬ শ্রমিককে শোকজ করেছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় তিনি নিজে বাদী হয়ে ২০ এপ্রিল আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিলেও এখনও পুলিশ মামলা নেয়নি।’
বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ বস্ত্র পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি পুলিশ ও কারখানার মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ তিনি অবিলম্বে বিষয়টি সমাধানের জন্য পুলিশ ও কারখানা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানান।
এ ঘটনায় কারখানার অ্যাডমিন ম্যানেজার রফিক জানান, ‘নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণ হলে পুলিশ ব্যবস্থা নিলে তারাও সহযোগিতা করবেন। এছাড়াও শ্রমিকদের শোকজের বিষয়ে শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ ঢাকা-১-এর এসপি সানা সামিনুর রহমান জানান, তারা নারী শ্রমিককে যৌন হয়রানির তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছেন। তবে মামলা নেওয়ার দায়িত্ব থানা পুলিশের। এছাড়াও ঘটনাটির সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
আশুলিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিজাউল হক দিপুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশ পরিদর্শক (ওসি, তদন্ত) জাবেদ মাসুদ জানান, ২০ তারিখে অভিযোগ পেয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখনও মামলা নেওয়া হয়নি।







