বয়স জালিয়াতি করে এক কিশোরীকে বিয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকায় ঝিনাইদহ পৌরসভার ওয়ার্ড কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুনকে জরিমানা করা হয়েছে। ওই কিশোরীকে বিয়ে দিতে স্কুলের ভুয়া প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে জন্মনিবন্ধনপত্রে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাম্মী ইসলাম ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে জরিমানা করেন। সোমবার (১৩ মে) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে এই জরিমানা করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, শহরের কাঞ্চননগর স্কুলের এক ছাত্রীর জন্য শৈলকুপার উমেদপুর হাই স্কুলের ভুয়া প্রশংসাপত্র ওঠানো হয়। পরে ওই প্রশংসাপত্রের মাধ্যমে ঝিনাইদহ পৌরসভা থেকে বয়স জালিয়াতি করে জন্মনিবন্ধন সনদ তোলা হয়। ওই নিবন্ধন ফরমে স্বাক্ষর করেন ঝিনাইদহ পৌরসভার সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ড কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুন। ওই জন্মসনদের ভিত্তিতে কিশোরীকে কালীগঞ্জ উপজেলার সুন্দরপুর গ্রামের শওকত আলীর ছেলে রাশেদুল ইসলামের সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হয়। বয়স জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হলে সোমবার দুপুরে সংশ্লিষ্টদের ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে তলব করা হয়।
ঘটনাস্থলে বিয়ের কাজী মাওলানা আনোয়ার হোসেন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুন, পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর শংকর নন্দি ও উমেদপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষকসহ বর-কনের অভিভাবকরা উপস্থিত হন।
শুনানিকালে শৈলকুপার উমেদপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক তার স্কুলের প্যাডে দেওয়া প্রশংসাপত্রটি ভুয়া বলে চিহ্নিত করেন। ফলে ভুয়া প্রশংসাপত্রের বিনিময়ে নেওয়া ঝিনাইদহ পৌরসভার জন্মসনদও ত্রুটিপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। এতে ফেঁসে যান কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুন। এ ঘটনায় বাল্য বিবাহ নিরোধ আইন ’১৭ এর ৮ ধারা মতে দোষী সাব্যস্ত করে ওয়ার্ড কাউন্সিলর বুলবুলি খাতুনকে নগদ পাঁচ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এ সময় বিয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়।








