মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাটে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার যোগসাজশে চাল আত্মসাতের সময় হাতে-নাতে ধরা পড়ায় দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে দুটি গুদাম সিলগালা করে দেওয়া হয়।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, টেকেরহাট খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কাজী সালাউদ্দিন শুক্রবার সকালে দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোমরেজ শেখ ও সেলিম খানকে ১০ নম্বর গোডাউনে ঢুকিয়ে দিয়ে বাইরে থেকে তালা মেরে দেন। ওই দুইজন গুদামের ভেতরে বসে চালের বস্তায় বোঙা (প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তৈরি বস্তা থেকে চাল বের করার যন্ত্র) দিয়ে চাল বের করে অন্য বস্তায় করে বাইরে বিক্রির জন্য মজুদ করছে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে গোডউনের সামনে ভিড় জমে যায়। খবর পেয়ে রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন ও সহকারী কমিশনার সালমা পারভিন গোডাউনে গিয়ে ওই দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা বস্তা থেকে বোঙা মেরে চাল বের করার কথা স্বীকার করে। এছাড়াও বৃহস্পতিবার রাতে ৯নং গুদামে রক্ষিত অসংখ্য বস্তা থেকে বোঙা মেরে চাল বের করে বাইরে বিক্রির জন্য বস্তাজাত করার বিষয়টি ধরে পড়ে। এ সময় বিভিন্ন অনিয়ম ও অসঙ্গতি দেখতে পান উপজেলা কর্মকর্তারা। পরে পুলিশ এসে পরিচ্ছন্নতাকর্মী মোমরেজ শেখ ও সেলিম খানকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে চালকল সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মাতুব্বর বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃত মোমরেজ শেখ জানান, খাদ্য গুদাম কর্মকর্তার নির্দেশে তারা এ কাজ করেছেন।
এদিকে আরও অভিযোগ উঠেছে, চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধনের তিন দিন আগে খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা কাজী সালাউদ্দিন প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই দুটি অটো রাইস মিলের সঙ্গে গোপনে আঁতাত করে ৬০০ মেট্রিক চাল কিনে গুদামজাত করেন। ১৪ মে চাল সংগ্রহ অভিযান উদ্বোধন করতে এলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন বিষয়টি টের পান। এ ব্যাপারে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সালমা পারভীনের নেতৃত্বে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার আবার সেই খাদ্যগুদাম কর্মকর্তার মাধ্যমে চাল আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ পাওয়ায় প্রশাসনসহ এলাকায় সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
তবে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা কাজী সালাউদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী মান সম্পন্ন চাল, ধান ও গম ক্রয় করায় ক্ষিপ্ত হয়ে ব্যবসায়ী ও গুদাম সংশ্লিষ্টরা আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।’
রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহানা নাসরিন জানান, ‘অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়ে অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত দুই পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রমাণ হিসেবে কিছু মালামাল জব্দ করা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’








