বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে পারিবারিক কলহের জের ধরে রিবুল হোসেন (২৩) নামে এক ভ্যানচালককে ছেলেধরা সাজিয়ে গণপিটুনির আয়োজন করার অভিযোগে পুলিশ তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে। সারিয়াকান্দি থানার কাছে কাঁঠালতলা এলাকায় মঙ্গলবার রাতে এঘটনা ঘটে। বুধবার তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।
গ্রেফতার তিনজন হলেন-সারিয়াকান্দি সদর ইউনিয়নের চরগোসাইবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে সিফাত প্রামানিক (৪৬), তার স্ত্রী বিউটি বেগম (৩৬) ও মেয়ে শিরিন আকতার (২০)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচি ইউনিয়নের গণকপাড়া গ্রামের আমিরুল ইসলামের ছেলে ভ্যানচালক রিবুল হোসেন কয়েক বছর আগে সদর ইউনিয়নের চরগোসাইবাড়ি গ্রামের সিফাত প্রামানিকের মেয়ে শিরিন আকতারকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে দুই বছরের একটি ছেলে আছে। সংসারে অভাব ও দাম্পত্য কলহের কারণে শিরিন কিছুদিন আগে ভিক্ষুক বাবার বাড়িতে চলে আসেন। রিবুল স্ত্রী-সন্তানের খরচ না দিলেও মাঝে মাঝে শ্বশুরবাড়িতে এসে ছেলেকে দেখে যান।
এদিকে শিরিন ও তার বাবা-মা রিবুলকে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন। তারা মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে রিবুলকে সারিয়াকান্দি থানার পাশে কাঁঠালতলা এলাকায় আসতে বলেন। সেখানে শ্বশুর সিফাত, শাশুড়ি বিউটি ও স্ত্রী শিরিন ছিলেন। রিবুল সেখানে আসার পর তার ছেলেকে কোলে নিয়ে আদর করেন। এক পর্যায়ে ছেলেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চান। তখন স্ত্রী শিরিন আপত্তি করেন। এ সময় হঠাৎ করেই শিরিন ও তার বাবা-মা ছেলেধরা বলে চিৎকার দেন। মুহূর্তের মধ্যে আশপাশের জনগণ সেখানে ছুটে আসেন। থানা থেকে পুলিশও আসে। এ সময় রিবুল পালিয়ে প্রাণ রক্ষা করেন। বিস্তারিত জানার পর পুলিশ রিবুলের স্ত্রী শিরিন, শ্বশুর সিফাত ও শ্বাশুড়ি বিউটিকে গ্রেফতার করে।
সারিয়াকান্দি থানার ওসি আল-আমিন জানান, ‘পারিবারিক কলহে ভ্যানচালক রিবুলকে শায়েস্তা করতেই তাকে ছেলেধরা সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকায় তার স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার সকালে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।’








