শেরপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ৫২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩০টি বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব ইউনিয়নে কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, সড়ক যোগাযোগ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ নানা অবকাঠামোগত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে রোপা আমন বীজতলা, সবজি, আউশ আবাদ, পাট ও ফলবাগান নষ্ট হয়ে প্রায় ৩০ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। জেলায় তিন হাজার ১৩২টি মৎস্য খামার, পুকুর ডুবে ও পাড় ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দুই হাজার ৪০৬ জন চাষী। মাছ ও পোনা ভেসে গিয়ে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১ কোটি ২৯ লাখ টাকা।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক আনার কলি মাহবুব এসব তথ্য জানিয়েছেন। বুধবার (২৪ জুলাই) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ রজনীগন্ধায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তথ্যগুলো জানানো হয়। জেলা প্রশাসক বন্যার ক্ষয়ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে বন্যা পরবর্তী কৃষি পুনর্বাসনের পাশাপাশি বন্যা কবলিত এলাকার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ ও ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের ঋণ সহায়তা প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়, জেলায় ১৩৬টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঁচটি মাদ্রাসা ও একটি কলেজসহ ২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বন্যার কারণে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। একটি প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে বিলীনের মুখে রয়েছে। এছাড়া উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাকের প্রাক- প্রাথমিক শিক্ষার আওতায় পরিচালিত আরও ২২টি প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সাধারণ মানুষের হাঁস-মুরগী মরে ও খামার ভেসে প্রাণি সম্পদ বিভাগের আওতায় ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। আর বন্যায় প্রাণহানি হয়েছে ২৫টি গবাদিপশুর।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের আওতায় ৩৭৯টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়ার দোকান এলাকায় কজওয়েসহ পাকা-কাঁচা মিলে এলজিইডি ও সওজ বিভাগের আওতায় বেশ কিছু রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত প্রায় এক হাজার ২শ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন। সাপে কাটার কোনও ঘটনা না ঘটলেও বন্যার পানিতে ডুবে ৯ শিশু ও বজ্রপাতে এক জনসহ ১৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
সভায় জানানো হয়, বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে জেলা প্রশাসনের আওতায় ইতোমধ্যে ১০৫ মেট্রিক টন চাল ও নগদ দেড় লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। এলাকাগুলোতে ৫২টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। তারা বিনামূল্যে দুর্গত মানুষের মাঝে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, খাবার স্যালাইন ও ওষুধ বিতরণ করছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকেও দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সহায়তা পৌছে দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে পাঁচটি।







