রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ছাত্রলীগকর্মী ফারুক হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) রাজশাহীর অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক এনায়েত কবির সরকার আসামিদের উপস্থিতিতে এ অভিযোগ গঠন করে। এর মধ্য দিয়ে মামলাটির বিচারকাজ শুরু হলো।
এর আগে বেলা ১১টা ৯ মিনিটে প্রিজন ভ্যানে করে আদালতে আনা হয় এ মামলার অন্যতম আসামি দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীকে। পরে হুইল চেয়ারের করে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। সাঈদীকে আদালতে তোলাকে কেন্দ্র কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়।
মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শিরাজী শওকত সালেহীন এলেন বলেন, ‘সাঈদীসহ ১০৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। আদালত বিচারকার্যের তারিখ পরবর্তীতে নির্ধারণ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফারুক নিহত হয়েছেন ২০১০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি। ঠিক দুই দিন আগে ৭ ফেব্রুয়ারি সাঈদী রাজশাহীতে এসেছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সঙ্গে গোপন বৈঠক করে ফারুককে হত্যা করার জন্য প্ররোচনা দেন। এজন্য তার বিরুদ্ধে ১০৯ ও ৩০২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে ৩০২ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’
তবে সাঈদীসহ ১১০ জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলা ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আবু মো. সেলিম। তিনি বলেন, ‘মামলারএজহারে সুনির্দিষ্ট করে ৩৫ জন এবং অজ্ঞাত আরও ২০-২৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল। সে হিসেবে আসামি হবে ৫৫-৬০ জন। কিন্তু আসামি করা হয় ১১০ জনকে। তার মধ্যে ছয় জন মারা যাওয়ায় ১০৪ জনের নামে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। ফারুক হত্যার ব্যাপারে সাঈদী রাজশাহীতে এসে গোপন বৈঠক করেছেন এগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ।’
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাবিতে বঙ্গবন্ধু হল দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ছাত্রশিবির ক্যাডারদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এই সংঘর্ষে শিবির ক্যাডাররা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কর্মী ও গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী ফারুক হোসেনকে খুন করে লাশ শাহ মখদুম হলের পেছনের ম্যানহোলে ফেলে রাখে। এঘটনার পরের দিন তৎকালীন রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম অপু বাদী হয়ে শিবিরের ৩৫ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনের নামে মতিহার মামলা দায়ের করেন।
২০১২ সালের ৩০ জুলাই রাজপাড়া থানার তৎকালীন ওসি জিল্লুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফারুক হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন আমীর মতিউর রহমান নিজামী, সেক্রেটারি আলী হাসান মুজাহিদ, নায়েবে আমীর দেলোয়ার হোসেন সাঈদীসহ ১১০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
আরও পড়ুন- ছাত্রলীগ কর্মী ফারুক হত্যা মামলা: রাজশাহীর আদালতে সাঈদীর হাজিরা







