ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একদিনে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। নতুন রোগীসহ বর্তমানে হাসপাতালে ১৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। রবিবার (৪ আগস্ট) হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম এই তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, রবিবার দুপুর পর্যন্ত ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে দুই জনের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হওয়ায় তারা রিলিজ নিয়ে বাসায় চলে গেছেন। পরে বিকালে আরও ৬ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রবিবার পর্যন্ত কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এছাড়াও রৌমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই জন এবং ফুলবাড়ীতে চিকিৎসা নিয়েছেন একজন।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাসহ ডেঙ্গু কর্নার খোলা হলেও চিকিৎসক সংকটের কারণে আসন্ন ঈদে ডেঙ্গু রোগীর সম্ভাব্য চাপ সামলানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, ২৫০ শয্যার কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের ৪২টি পদের বিপরীতে বর্তমানে রয়েছেন মাত্র ১১ জন। পুরো হাসপাতালের ২৬৬ পদের বিপরীতে জনবল রয়েছে মাত্র ১২৩ জন। এদিকে ঈদে উপলক্ষে ঢাকা-ফেরত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিকিৎসক ও কর্মচারীরা।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার জানান, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছি। হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। তারপরও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এভাবে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সমস্যায় পড়তে হতে পারে।’
গত দুই তিন দিন আগে চিকিৎসক চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবু মো. জাকিরুল ইসলাম জানান, ২৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে এত অল্প সংখ্যক চিকিৎসক ও জনবল দিয়ে চিকিৎসাসেবা দেওয়া আসলেই খুব কঠিন। চিকিৎসক ও জনবল সংকটের বিষয় জানিয়ে কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।







