ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক দফতরিকে পকেটে ইয়াবা দিয়ে নির্যাতনের ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. জামিরুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সকালে জেলা পুলিশ লাইনসে তাকে সংযুক্ত করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন।
তিনি জানান, এসআই জামিরুলের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনার পর সোমবার (৫ আগস্ট) পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আহত দফতরি মো. উবায়দুল্লা। লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, গত শনিবার রাত ১০টার দিকে এসআই জামিরুল ইসলামের নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার ছয় পুলিশ সদস্য উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের খাকচাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। সেখানে ওই বিদ্যালয়ের দফতরি উবায়দুল্লা নৈশ প্রহরীর দায়িত্ব পালন করছিলেন। স্কুল ভবনে ঢুকে দরজায় টোকা দেন এসআই জামিরুল। দরজা খোলার পর এখানে বশির নামে কেউ আছে কিনা
জানতে চান জামিরুল। এই নামে কেউ নেই বলার পর উবায়দুল্লার পকেটে হাত দেন জামিরুল। পকেট হাতিয়ে কিছু না পেয়ে আবার জিজ্ঞেস করেন, বাচ্চু নামে কেউ আছেন কিনা? জবাবে দফতরি জানান, এ নামেও এখানে কেউ থাকেন না। পরে জামিরুল কর্কশ ভাষায় উবায়দুল্লাহকে স্কুলের সব কক্ষের দরজা খুলে দিতে বলেন। একপর্যায়ে জামিরুলের সঙ্গে থাকা পুলিশ সদস্যরা আবার উবায়দুল্লাহর পকেট চেক করার নামে কয়েকটি ইয়াবা ট্যাবলেট ঢুকিয়ে দেন। এরপর জামিরুল উবায়দুল্লাহকে বলেন, ‘তুই ইয়াবা ব্যবসা করিস। আর কোথায় ইয়াবা আছে বল।’ এর পরপরই জামিরুল ও অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উবায়দুল্লাহকে বেদম পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তার মাথা ও দুই কানে এলোপাতাড়ি বেদম প্রহার করা হয়। এতে উবায়দুল্লাহর বাঁ কানের পর্দা ফেটে যায়। খবর পেয়ে ওই রাতে উবায়দুল্লাহর বাবা ক্বারি নুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসলে তাকেও আটক করে সাদা কাগজে জোর করে স্বাক্ষর নেন এসআই জামিরুল। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তালেব এসে দুই হাজার ৫শ’ টাকা দিয়ে উবায়দুল্লাহ ও তার বাবাকে ছাড়িয়ে নেন। যাওয়ার সময় জামিরুল হুংকার দিয়ে যান এ ঘটনা কাউকে জানালে উবায়দুল্লাহকে মাদক মামলায় ঢুকিয়ে শায়েস্তা করবেন।
পরে গত রবিবার সকালে আহত উবায়দুল্লাহকে প্রথমে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নাক,কান ও গলা রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মূছা খানকে দেখানো হয়। তিনি পরীক্ষার পর জানান, উবায়দুল্লাহর কানের পর্দা ফেটে গেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে রবিবার রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আলমগীর হোসেন ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. রেজাউল কবির, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয় মেম্বারের উপস্থিতিতে ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেন আহত উবায়দুল্লাহ। ঘটনা শোনার পর পুলিশের দুই কর্মকর্তা বিষয়টি লিখিত আকারে পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ দেওয়ার জন্য আহত তাকে পরামর্শ দেন।
তাদের পরামর্শে সোমবার সকালে উবায়দুল্লাহ পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আরও পড়ুন: পকেটে ইয়াবা দিয়ে দফতরিকে নির্যাতনের অভিযোগ এসআই’র বিরুদ্ধে







