সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বাবাকে খুনের ঘটনায় দায় স্বীকার করেছে গ্রেফতারকৃত কাজিপুর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (৩০)। আজ বৃহস্পতিবার বিকালে সিরাজগঞ্জের বিচারিক হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেবে সে। কাজিপুর থানার উপ-পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র পাল এ তথ্য জানিয়েছেন।
আটক হওয়ার পর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গৌতম চন্দ্র পাল জানান, ভুক্তভোগী মেয়ের চাচা বাদী হয়ে বুধবার (২ অক্টোবর) রাতে কাজিপুর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নারী নির্যাতন দমন আইনে উত্ত্যক্তের ঘটনা ও আদার্স (অপর) সেকশনের ধারায় মারপিট/খুনের ঘটনা উল্লেখ করে মামলা রজু করা হয়। ওই কলেজছাত্রীর গৃহশিক্ষক কাজিপুর পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলামসহ জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ১৬ জনকে মামলায় আসামি করা হয়।
এদিকে ময়নাতদন্তের জন্য নিহত আব্দুর রউফ আবু সাঈদের (৪৫) লাশ বৃহস্পতিবার সকালে সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বঙ্গামাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মারপিটের ঘটনায় ভিকটিমের বাম চোখের নিচে গুরুতর জখমের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে।
কাজিপুর থানার ওসি এ কে এম লুৎফর রহমান জানান, ভিকটিম সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। উচ্চ মাধ্যমিক পড়ার সময় কাজিপুর উপজেলা সদরের আলমপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম মেয়েটির গৃহশিক্ষক ছিল। ওই গৃহশিক্ষক প্রায়ই মেয়েটিকে কলেজ যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করতো। বিষয়টি নিয়ে এর আগে বেশ কয়েকবার আমিনুল ইসলামকে সতর্ক করেন মেয়েটির স্বজনরা। বুধবার দুপুরে মেয়েটি কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পথে আমিনুলসহ কয়েকজন তাকে হয়রানি করার চেষ্টা করে। খবর পেয়ে মেয়েটির বাবা আবু সাঈদ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এ সময় আমিনুলের দলবল আবু সাঈদকে বেধড়ক মারপিট করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সন্ধ্যায় তিনি মারা যান। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। রাতেই আমিনুল ইসলামকে আটক করে কাজিপুর থানা পুলিশ।
মামলার অন্য আসামিদের ধরতে বুধবার রাতে দফায় দফায় অভিযান চালায় পুলিশ। তবে মামলা হওয়ায় অভিযুক্তরা দ্রুত সটকে পড়ে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গৌতম চন্দ্র পাল বলেন, ‘বুধবার রাতে কাজিপুর থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় আমিনুলকে। এ সময় সে কলেজছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও তার বাবাকে মারপিটের ঘটনা স্বীকার করে। বৃহস্পতিবার বিকালে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য তাকে আদালতে তোলা হবে। এরপর তাকে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হবে।’
কাজিপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান সিরাজী বলেন, ‘ঘটনাটি নিন্দনীয় ও ন্যক্কারজনক। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানার পর বুধরার রাতেই পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।’
আরও পড়ুন- মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বাবা খুন, গৃহশিক্ষক আটক








