কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মানসিক নির্যাতন চালানোর অভিযোগ তুলেছেন গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ডিন আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করেছেন তিনি।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদানের আগে এই শিক্ষক গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অবসরের পর বিশ্ববিদ্যালয়ে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পান তিনি।
চিঠিতে ভুক্তভোগী শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুছ মিয়া জানান, ২৯ অক্টোবর বিকাল ৩টার সময় আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র হাসান আলি, মোহাম্মদ বরকতউল্লাহ নাইম, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ কাফি, মোহাম্মদ সোলায়মান রাব্বিসহ ৭-৮ জন তার ২০৮ নম্বর রুমে প্রবেশ করে দরজা-জানালা বন্ধ করে দেন। এরপর তাকে জিম্মি করেন তারা। একপর্যায়ে তার নিয়োগ অবৈধ দাবি করে পদত্যাগের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন। বিষয়টি তিনি মোবাইল ফোনে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যকে জানান। তখন উপাচার্য ওই ছাত্রদের তার রুমে গিয়ে কথা বলতে বলেন। কিন্তু ছাত্ররা উপাচার্যের রুমে না গিয়ে তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। ঘটনার পর নিরাপত্তার বিষয় চিন্তা করে ১০ দিনের ছুটি নিয়ে ক্যাম্পাস ত্যাগ করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. রাজিউর রহমান সংবাদ পেয়ে একপর্যায়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি মনে করেন, সাবেক উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন পদত্যাগ করার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের কারণে এসব ঘটনা ঘটছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. নুরউদ্দিন আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. এম এ সাত্তারকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রতিবেদন রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করতে বলা হয়েছে কমিটিকে।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ড. মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, ‘আমরা একটা অভিযোগপত্র পেয়েছি। এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’








