বগুড়ার গাবতলীতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে নববধূকে মারপিটের ঘটনায় অভিযুক্ত এসআই (উপ-পরিদর্শক) রিপন মিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করতে নন্দীগ্রাম সার্কেলের এএসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে তাকে পুলিশ লাইন্সে প্রত্যাহার করা হয়। মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) বিকালে পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বগুড়ার গাবতলী উপজেলার খুপি মধ্যপাড়া গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে এমরান হোসেন সুইট একই এলাকার জাহিদুল ইসলামের মেয়ে মনিরা আকতার কেমিকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হলে কেমির মা মেরিনা গত ১৪ সেপ্টেম্বর সুইটের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিপন মিয়া পরদিন সুইটকে গ্রেফতার করেন। দুই পরিবার মীমাংসা করে আদালতে কাগজপত্র জমা দিলে গত ৩১ অক্টোবর সুইটের জামিন হয়। ১ নভেম্বর পারিবারিকভাবে তদের বিয়ে হয়। পরে সুইট কেমিকে গাবতলীর খুপি মধ্যপাড়ায় তার বাড়িতে নিয়ে যান।
এমরান হোসেন সুইট অভিযোগ করেন, ‘মামলা মীমাংসা ও কেমিকে বিয়ে করায় এসআই রিপন মিয়া আমাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন। তিনি আমাকে হুমকি দেন এবং ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। এছাড়া পুলিশ কর্মকর্তা কেমিকে ফোনে হুমকি দেন, আমাকে হত্যা করা হবে অথবা মাদক মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো হবে। এর একপর্যায়ে রবিবার রাত ১০টার দিকে সাদা পোশাকে এসআই রিপন মিয়া ও চার-পাঁচ জন দরজা ভেঙে বাড়িতে ঢোকেন। আমি টের পেয়ে পালিয়ে গেলে পুলিশ কর্মকর্তা তার লোকজন নিয়ে ঘরে ঢোকে। এরপর তারা কেমিকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে জানতে চায় আমি কোথায়। কেমি বলতে দেরি করায় এস আই রিপন মিয়া লাঠি ও টর্চলাইট দিয়ে তাকে মারপিট করেন। এছাড়া তার মাথায় কিলঘুষি ও চড়-থাপ্পড় দেন। কেমির চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে পুলিশ কর্মকর্তা ও তার লোকজনকে ঘেরাও করেন। অবস্থা বেগতিক দেখে নিজেদের পরিচয় দিয়ে এসআই রিপন মিয়া তার সঙ্গে আসা পুলিশ এবং সোর্স নিয়ে সটকে পড়েন। রাত ১২টার দিকে আমার আহত স্ত্রী কেমিকে বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে ভর্তি করি।’
এদিকে সোমবার সকালে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা হাসপাতালে গিয়ে কেমি ও সুইটের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পান। এদিন বিকালে পুলিশ সুপার অভিযুক্ত গাবতলী থানার এসআই রিপন মিয়াকে পুলিশ লাইন্সে ক্লোজ করেন। মঙ্গলবার বিকালে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এছাড়া নন্দীগ্রাম সার্কেলের এএসপি আহমেদ রাজিউর রহমানকে সাত দিনের মধ্যে ঘটনা তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। রিপোর্টে সত্যতা পেলে এসআই রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নির্যাতনের শিকার কেমির স্বামী এমরান হোসেন সুইট ও এলাকাবাসী অভিযোগ করেন, এসআই রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে নিরীহ জনগণকে পকেটে মাদক ঢুকিয়ে গ্রেফতার করে টাকা আদায় ও হয়রানির অনেক অভিযোগ রয়েছে। গাবতলী থানা পুলিশ তাদের এলাকায় গিয়ে গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলেছেন।
সুইট জানান, চিকিৎসক তার স্ত্রীকে হাতের এক্সরে করার পরামর্শ দিয়েছেন। মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়ার পরই এসআই রিপন মিয়া ও অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন তিনি।







