নিখোঁজের চারদিন পরে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সুমনা হকের (৯) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রতিবেশী কিশোর রিয়াজ আহমেদ কাননকে (১৩) গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি নির্মাণাধীন বাথরুমের ভেতর মাটি খুঁড়ে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পুঁতে রাখা হয়। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১২টার দিকে পৌর এলাকার পূর্ব গোয়ালপাড়ার ইয়াসিন হাবিব কাননের বাসার একটি নির্মাণাধীন বাথরুম থেকে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুমনা হক শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার জুয়েলের মেয়ে। আটক রিয়াজের বাবা ইয়াসিন হাবিব কানন। রিয়াজ ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র।
পুলিশ জানায়, ১৬ ডিসেম্বর নিজ এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় সুমনা। পরে তার বাবা জুয়েল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। জুয়েল ও পরিবারের সদস্যরা জানান, নিখোঁজ হওয়ার আগে পাশের বাসায় খেলতে যায় সুমনা। এরপর থেকেই তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিলো না। তারা এলাকার ইয়াসিন হাবিব কাননের বাসায় নজর রাখতে শুরু করেন। অবশেষে কাননের ছেলে রিয়াজকে সন্দেহ হলে বৃহস্পতিবার রাতে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করে সে। তার দেওয়া তথ্যমতে তাদের বাসার নির্মাণাধীন একটি বাথরুমের ভেতরে মাটি খুঁড়ে সুমনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি (অপারেশন) গোলাম মূর্তজা জানান, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর মেরে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছিল। উদ্ধারের সময় শিশুটির গায়ে কোনও কাপড় ছিল না।’
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ওসি আশিকুর রহমান জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। ময়নাতদন্ত শেষে আসল ঘটনা জানা যাবে।








