রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার বলেছেন, ‘পাহাড়ে প্রতিটি উন্নয়নমূলক কাজে একটি গোষ্ঠী বাধা সৃষ্টি করে। কাপ্তাই হ্রদ সৃষ্টির ফলে সবাই ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। কিন্তু পানি শুকালে কিছু জমি তৈরি হয়, সেখানে অনেকে চাষাবাদ করে। আমি নিশ্চিত, কেউ কেউ এটা নিয়েও রাজনীতি করতে চাইবে। সাধারণ মানুষদের ব্যবহার করে কেউ যাতে রাজনীতি করতে না পারে, জনপ্রতিনিধিদের সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকায় নৌ-পথের নাব্য উন্নয়ন এবং ল্যান্ডিং সুবিধা উন্নয়নের সম্ভাব্যতা যাচাই শীর্ষক কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশিদের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন দীপংকর তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর এম মাহবুব উল ইসলাম। জেলার সব উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
কাপ্তাই হ্রদে নাব্য বাড়ানোর বিষয়ে দীপংকর তালুকদার বলেন, ‘শুধু কয়েকটি জায়গায় ড্রেজিং করলে আবারও তাড়াতাড়ি পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। আগে যে নদীগুলো ছিল সেগুলো কোথায় ছিল তা খুঁজে বের করে সেভাবে কাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে। রাঙামাটিতে এমনিতেই পাহাড় ধসের শঙ্কা রয়েছে। তাই যে পরিকল্পনাই হাতে নেওয়া হোক না কেন, তার কারণে ভূ-প্রকৃতিগতভাবে কোনও ক্ষতি না যাতে হয় সেদিকে খেয়াল রেখেই প্রকল্প শুরু করতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাউজান-রাঙামাটি চার লেনের রাস্তার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সড়ক বিভাগ। হ্রদ ড্রেজিংয়ের ফলে যে মাটি পাওয়া যাবে তা সেই কাজে লাগানো যেতে পারে।’
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলায় নৌপথই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। জানুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসে পানির প্রবাহ কম থাকায় নৌচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে হ্রদে ড্রেজিং করা হলে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রবাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, কাপ্তাই হ্রদ প্রতিদিন যেভাবে দখল ও দূষণ হচ্ছে তাতে কয়েক বছরের মধ্যে প্রকৃত চেহারা হারিয়ে যাবে। হ্রদ দখল ও দূষণ রোধে প্রশাসনকে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। শুধু কয়েকটি জায়গায় ড্রেজিং করলে আবারও পলি জমে ভরাট হয়ে যাবে। তাই পরিকল্পনার মাধ্যমে আগে নদীগুলোকে চিহ্নিত করে খননকাজ করলে সুফল পাওয়া যাবে।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর এম মাহবুব উল ইসলাম বলেন, ‘বিআইডব্লিউটিএ এমনভাবে নৌপথের নাব্য রক্ষা করে, যাতে যাত্রী ও মালামাল চলাচলে বাধা তৈরি না হয়। আমরা ১৭৮টি নদীর নাব্য উন্নয়নে কাজ করছি। বহু বছর ধরেই এই কাপ্তাই হ্রদের ড্রেজিংয়ের বিষয়ে শুনে এলেও দৃশ্যমান কিছুই লক্ষ করা যায়নি। কাপ্তাই হ্রদে যাতে পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পায় সে ব্যাপারে আমরা কাজ করবো।’








