দুই হাত না থাকায় পা দিয়ে লিখেই প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) পরীক্ষায় অংশ নেয় মুক্তামনি (১২)। তার স্কুল থেকে মোট ১৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। ভালো ফলাফলের আশা ছিল মুক্তামনির, সেই আশা পূরণও হয়েছে। স্কুলে সব পরীক্ষার্থীর মধ্যে সেই একমাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছে। আগামীতে আরও লেখাপড়ায় আরও ভালো করতে চায় মুক্তামনি। বরিশালের হিজলা উপজেলার পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে সে এই ফলাফল করেছে।
সেন্টু মিয়া ও মা ঝুমুর বেগম দম্পত্তির সন্তান মুক্তামনি। ঝুমুর ঢাকার সাভারে গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
পূর্ব পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাছিমা খানম বলেন, ‘এ বছর আমাদের স্কুল থেকে ১৪ জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিয়েছে। এদের মধ্যে একমাত্র মুক্তামনিই জিপিএ-৫ পেয়েছে। পা দিয়ে লিখে এই ফল করেছে সে। ওর সেই লেখাও অন্যদের হাতের লেখা চেয়ে অনেক সুন্দর।’
মুক্তামনির মা ঝুমুর বেগম বলেন, ‘দুই বছর আগে তৃতীয় শ্রেণিতে অধ্যায়নরত অবস্থায় মুক্তা সাভারে আসে। সেখানে খেলার ছলে পাখি ধরতে গিয়ে দুই হাত দিয়ে বৈদ্যুতিক তার চেপে ধরে সে। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে তার দুই হাত বিকল হয়ে যেতে শুরু করে। চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রথমে কনুই থেকে দুটি হাত কেটে ফেলা হলেও ক্ষত ঠিক না হওয়ায় এক পর্যায়ে দুটো হাতই পুরোপুরি মুক্তার শরীর থেকে বাদ দিতে হয়েছে।’
তিনি জানান, ‘হিজলার পত্তণীভাঙ্গা গ্রামে দাদি জাহানারা বেগমের কাছে থেকে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠলে আবার পড়াশোনা করতে চায় মুক্তা। তার ইচ্ছাতেই ২০১৮ সালে পত্তণীভাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে মুক্তামনিকে ভর্তি করা হয়। স্কুল জীবনের শুরু থেকেই ডান পায়ের আঙুলের ফাঁকে কলম দিয়ে লেখার অভ্যাস করতে থাকে মুক্তা। আর এখন হাতে লেলে এমন যে কারও মতো স্বাভাবিক গতিতেই পা দিয়ে অনায়াসে লিখে যেতে পারে আমার মেয়ে।’
স্কুলের প্রধান শিক্ষক নাছিমা খানম বলেন, ‘না দেখলে বিশ্বাস হবে না মুক্তামনির পড়াশোনা করার ইচ্ছা কতোটা প্রবল। আমাদের স্কুল থেকে এবার ১৪জন শিক্ষার্থী পিইসি পরীক্ষা দিচ্ছে। এদের মধ্যে মুক্তার দুটি হাত না থাকায় পা দিয়েই সে লিখে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ওর (মুক্তা) পায়ের লেখাও অন্যদের হাতের লেখার চেয়ে অনেক সুন্দর। মুক্তামনি এতোটাই ভালো ছাত্রী সে কখনও বিনা কারণে স্কুলে অনুপস্থিত থাকে না। নিজের যে কোনও সমস্যা শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়।’
মুক্তামনির মা ঝুমুর বেগম জানান, তার স্বামী তেমন কোনও কাজকর্ম করতে পারেন না। নিজের সামান্য উপার্জনে দুই মেয়েকে পড়াশোনা করাতে হিমশিম খাচ্ছেন। তারপরও মেয়েদের আগ্রহের কারণে এখনও পড়াশোনা চালিয়ে নিচ্ছেন। তিনি মেয়েদের উচ্চশিক্ষিত করতে সহযোগিতা কামনা করেন।







