এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) শিক্ষক ডা. শিমুল সাহাকে মারধর করেছেন ওই ছাত্রীর স্বজনরা। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে যশোর শহরের পালবাড়ি মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুর শেষে ফিরছিলেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এ ঘটনায় শিক্ষকদের পক্ষ থেকে যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ বলছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরদিকে, এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করবে বলে জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১০টার দিকে যবিপ্রবির একটি বাস পালবাড়ি মোড়ে থামলে কিছু শিক্ষার্থী সেখানে নামেন। এ সময় তিন যুবক বাস থেকে এক শিক্ষককে নামিয়ে চড়-থাপ্পড় মারে। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা তাদের থামায়। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা বাসটি নিয়ে ক্যাম্পাসে চলে যান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিমুল সাহা বলেন, ‘কোনও কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই ছাত্রীর স্বজনরা আমাকে মারধর শুরু করেন। কেন তারা আমার প্রতি চড়াও হলেন বুঝতে পারছি না। ওই মেয়ে কেনই বা এসব অভিযোগ তার স্বজনদের কাছে দিলো, তাও জানি না।’
বিষয়টি রাতেই পুলিশকে অবহিত করা হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় পুলিশ এ বিষয়ে বসবে বলে জানিয়েছে।’
এদিকে, হয়রানির অভিযোগ তোলা শিক্ষার্থীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মেয়ের ‘সম্মানহানির’ কথা বললেও বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. ইকবাল কবীর জাহিদ বলেন, ‘কেমিস্ট্রি বিভাগের ২২ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নরসিংদীতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্যুরে গিয়েছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শিমুল সাহা ও সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম। সেখান থেকে ফেরার পথে শহরের পালবাড়ি মোড়ে এক মেয়ে শিক্ষার্থীর ভাই ও বন্ধুরা ড. শিমুল সাহাকে লাঞ্ছিত করেন। তাদের অভিযোগ, ওই শিক্ষক বাসে তাদের বোনকে যৌন হয়রানি করেছে।’
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি শুনেছেন। জিডি হয়েছে। আসলে কী ঘটেছে সেটা জানতে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনিসুর রহমান জানান, শিক্ষকরা রাতেই তাকে ঘটনার বিষয়ে জানিয়েছেন। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় খুললে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। তদন্তে প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।’








