নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টসকর্মীদের সবাই এখনও মার্চ মাসের বেতন পাননি। শ্রমিকদের অভিযোগ, অনেক মালিক বেতন না দিয়েই ৪৫ দিনের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছেন। এ কারণে সাধারণ শ্রমিকের মধ্যে চরম ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তবে গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠন বিকেএমএই সভাপতির দাবি, ৮৫ শতাংশ গার্মেন্টস কারাখানায় শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। বাকি বেতন আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে প্রদান করা হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফতুল্লার মল্লিকা অ্যাপারেলেন্স শ্রমিকদের বৃহস্পতিবার সকালে গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের কারখানায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর তাদের আইডি কার্ড রেখে বেতন না দিয়ে চলে যেতে বলে। মার্চ মাসের ২০ তারিখে প্রদান করা হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। মল্লিকা গার্মেন্টের শ্রমিক শাহাদত হোসেন বলেন, ‘গার্মেন্টস কারখানা বেতন দেবে বলে ডেকে নিয়ে যায়। কিন্তু তারা বেতন না দিয়ে আমাদের আইর্ডি কার্ড রেখে দিয়ে বলেছে আগামী ২০ মার্চ বেতন প্রদান করা হবে। নারায়ণগঞ্জ লকডাউন করার পর থেকে আমরা খেয়ে না খেয়ে জীবন যাপন করেছি। কিন্তু গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ আমাদের আইডি কার্ড রেখে দেওয়ায় শঙ্কায় আছি।’
মল্লিকা অ্যাপারেলসের শ্রমিক আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করেন, চাকরির কারণে তাদের নারায়ণগঞ্জে অবস্থান করতে হচ্ছে। কিন্তু তারা স্থানীয় বাসিন্দা না হওয়ার কারণে স্থানীয় মেম্বার, চেয়ারম্যান বা কাউন্সিলর কোনও পক্ষ থেকেই সরকারি সহযোগিতা পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘ঘরে খাবার নেই। তাই এই মুহূর্তে বেতনের টাকার খুবই প্রয়োজন।’ এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য ওই গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশ নিট ওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম সেলিম ওসমান জানান, বিকেএমইএ সদস্যভুক্ত গার্মেন্টস কারখানার মধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ফ্যাক্টরির মালিক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেছেন। বাকি যেসব ফ্যাক্টরি আছে তার আগামী ১৬ মার্চের মধ্যে বেতন পরিশোধ করবেন। তিনি বলেন, ‘গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতন যাতে বিকেএমইএ’র বাইরে যেসব ফ্যাক্টরি রয়েছে সেসব মালিকদের নিধারিত সময়ের মধ্যে শ্রসিকদের বেতন পরিশোধ করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। ’
এদিকে খাদ্য সামগ্রীর দাবিতে নারায়ণগঞ্জ নতুন কোর্ট এলাকার সামনে দুস্থ অসহায় প্রায় ২শ’ মানুষ খাদ্য সামগ্রীর দাবিতে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। তারা জানান, সরকারি ছুটি ঘোষণার পর থেকে কাজে যেতে পারছেন না। তাদের ঘরে কোনও খাবার নেই। সরকারিভাবে কোনও ত্রাণসামগ্রী পাননি। এ কারণে বাধ্য হয়ে খাদ্য সামগ্রীর জন্য রাস্তায় নেমেছেন তারা। পরে যারা ত্রাণসামগ্রী পাননি তাদের তালিকা প্রস্তুত করে উপজেলা প্রশাসনের কাছে দিলে উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ( ইউএনও) নাহিদা বারিক ত্রাণের ব্যবস্থা করবেন, এমন আশ্বাসে তারা ঘরে ফিরে যান।








