গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় তরমুজ ও বাঙ্গি বাম্পার ফলন হলেও বিক্রি নিয়ে চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। করোনাভাইরাসের কারণে পুরো জেলা লকডাউন থাকায় পাইকাররা আসতে না পারায় উৎপাদিত ফসল বিক্রি করতে পারছেন না কেউই। ফলে জমিতেই তরমুজ ও বাঙ্গি নষ্ট হতে শুরু করেছে।
জানা যায়, ঝড় আর শিলা বৃষ্টির কারণে গত দুই বছর তরমুজ ও বাঙ্গির ক্ষতি হওয়ায় লোকসান হয়েছিল কৃষকদের। এবছর বাম্পার ফলন হওয়ায় ফসল বিক্রি করে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার পাশাপশি লাভের স্বপ্ন দেখছিলেন কোটালীপাড়ার চর পুকুরিয়া, বরুয়া, কালিগঞ্জ, নলুয়াসহ প্রায় ২৫ গ্রামের কয়েক হাজার কৃষক।
কৃষকেরা জানান, এবছরও তাদের সেই স্বপ্ন নষ্ট হতে বসেছে। করোনাভাইরাস রোধে পুরো জেলা লকডাউন ঘোষণা করায় বাইরে থেকে পাইকাররা না আসার কারণে ফসল বিক্রি করা যাচ্ছে না। ফলে জমিতেই ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপশি আর্থিক ক্ষতি ও ঋণ শোধ করার চিন্তায় পড়েছেন তারা।
আড়তদাররা জানান, প্রতিবছর কালিগঞ্জ বাজারে প্রায় দুইশ কোটি টাকার তরমুজ ও বাঙ্গি বিক্রি হয়ে থাকে। প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক তরমুজ ভর্তি করে দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলেও এ বছর চিত্রটি ঠিক তার উল্টো। এবছর করোনা ভাইরাসের কারনে দুয়েকটি বাদে সব আড়ৎ বন্ধ থাকায় বাজারে তরমুজ ও বাঙ্গি আনতেও পারছেন না কৃষকরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় জানান, কৃষকরা এবার ক্ষতি সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে আশপাশের বাজারে তরমুজ ও বাঙ্গি বিক্রিসহ পাইকাররা যাতে আসতে পারেন সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানান, তরমুজ বাজার নামে একটা অ্যাপস চালু করা হয়েছে। অনলাইনের মাধ্যমে কৃষকরা পাইকারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের তরমুজ ও বাঙ্গি বিক্রি করতে পারবেন।
প্রসঙ্গত, এবছর কোটালীপাড়া উপজেলায় ৬৫০ হেক্টর জমিতে তরমুজ এবং বাঙ্গি আবাদ করা হয়। ফসল নষ্টসহ আর্থিক ক্ষতির কথা বিবেচনা করে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমনটিই প্রত্যাশা কৃষকদের।








