লকডাউন ভেঙে গাজীপুরের চারটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন। রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল থেকে টঙ্গীর বিভিন্ন এলাকায় কারখানার সামনে, আঞ্চলিক সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন এসব কারখানার কয়েকশ’ শ্রমিক।
কারখানাগুলো হলো– টঙ্গীর গাজীপুরা সাতাইশ এলাকায় ইউনিটেক্স লিমিটেড, ব্রাইট অ্যাপারেলস লিমিটেড, প্রচেষ্টা টেক্সটাইল লিমিটেড, বড় মসজিদ এলাকার মাদার ফ্যাশন এবং ভোগড়া এলাকার স্টাইলিশ লিমিটেড। সাতাইশ এলাকার ইউনিটেক্স লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা জানান, সকালে কারখানায় এসে তারা বন্ধের নোটিশ দেখতে পান। বকেয়া বেতন না দিয়ে কর্তৃপক্ষ গোপনে বন্ধের এ নোটিশ টানিয়ে দেয়। এ সময় বেতনের দাবিতে শ্রমিকরা কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা বলেন, ‘আমরা ন্যায্য পাওনার জন্য আন্দোলন করছি। শতভাগ নিয়ম মেনে কাজ করেছি, আর বেতন নেওয়ার সময় আন্দোলন করে নিতে হয়। আমাদের এ সমস্যার কথা কেউ শোনেও না, দেখেও না। শ্রমিক বলে আমরা সব সময় অবহেলিত।’
ভোগড়া এলাকার স্টাইলিস লিমিটেড পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে সকাল থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলন করছেন। এ সময় মহাসড়কের উভয় পাশে পণ্যবাহী যানবাহন আটকা পড়ে যায়। শ্রমিকরা জানান, রবিবার তাদের বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ আগাম নোটিশ ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দেয়। সকালে কাজে যোগ দিতে এসে তারা কারখানার গেটে তালা দেখতে পান।
কারখানার সুইং, কোয়ালিটি ও ফিনিশিং শাখার শ্রমিকরা বলেন, ‘কারখানা কর্তৃপক্ষ গত তিন মাস যাবৎ তাদের বেতন দেওয়ার কথা বলে টালবাহানা করে আসছে। অবশেষে আজ (রবিবার) বেতন দেওয়ার শেষ দিন থাকলেও কর্তৃপক্ষ তা দেয়নি। তাই আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হয়েছি। কারখানাটিতে প্রায় ১৫শ’ শ্রমিক কাজ করেন।’
বড় মসজিদ এলাকার মাদার ফ্যাশনের কারখানার শ্রমিকরা জানান, আজ দুই মাসের বকেয়া বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও কর্তৃপক্ষ বেতন দিতে গড়িমসি করছে। তাই তারা সকাল থেকেই কারখানার সামনে বিক্ষোভ করছেন তারা।
গাজীপুর শিল্প পুলিশের টঙ্গী জোনের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) এস আলম জানান, কারখানা মালিকরা ফোন বন্ধ করে রাখছে। চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। যে কারখানাগুলোর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে তারা আজই বেতন দিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলে শ্রমিকরা শান্ত হন।








