বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এম এ আজাদ সজলের মৃত্যুর ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও এর কারণ এখনও জানা যায়নি। মৃত্যুর ঘটনাটি অস্বাভাবিক মনে হলেও এ ঘটনায় কেউ জড়িত কিনা বা কেন এই ঘটনা ঘটেছে সঠিকভাবে বলতে পারছে না কেউ। এই ঘটনায় ডা. আজাদের ভাই মামলা করলে সুনির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই। অন্যদিকে সহকর্মীরাও বুঝতে পারছেন না কেন এমন একটি ঘটনা ঘটেছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) এ বিষয়ে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, 'ডা. আজাদ রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করতেন। কেউ টাকার অভাবে চিকিৎসা না করাতে পারলে তিনি সেই দায়িত্ব নিতেন। এমন অনেক ঘটনা আছে এ হাসপাতালে। তার মৃত্যুর খবরে সবাই শুধু বলেছেন, একজন ভালো মানুষ চলে গেলেন। নম্র-ভদ্র স্বভাবের এই মানুষটির এভাবে মৃত্যু হবে তা কেউ মেনে নিতে পারছেন না। তার সঙ্গে মেডিক্যালের কারও দ্বন্দ্ব ছিল না। দ্বন্দ্ব করার মতো মানুষ ছিলেন না তিনি। তার মৃত্যুর রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছি।'
একই কথা বলেন মমতা স্পেশালাইজড হসপিটালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. জহিরুল হক মানিক। তিনি বলেন, 'ডা. আজাদের সঙ্গে হাসপাতালের কারও কোনও দ্বন্দ্ব ছিল না। আর তিনি এতটা নরম প্রকৃতির মানুষ ছিলেন, কারও সঙ্গে দ্বন্দ্ব হওয়ার কথাও নয়।'
নিহতের ভাই ডা. শাহারিয়ার উচ্ছ্বাস বলেন, 'মরদেহ উদ্ধারের পূর্বের দিন ইফতারের সময় থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না। রাতে ভাবি ফোন দিয়ে তাকে না পেয়ে তার খোঁজ করেন। এর পূর্বে যদি তিনি সাত তলার লিফট থেকে পড়ে যেতেন তাহলে বড় ধরনের আওয়াজ হতো। হাসপাতাল থেকে শুরু করে আশপাশের মানুষ জানতো। কিন্তু তা হয়নি। আবার লিফটে না থাকলে ওই স্থান থেকে সে পড়লে তার পা থাকবে লিফটের দরজার দিকে কিন্তু পা ছিল উল্টো দিকে।'
এমন বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেন মামলার বাদী ডা. শাহারিয়ার। তিনি দাবি করেন, তার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ ওই স্থানে ফেলে রাখা হয়েছে। আর এ কারণেই বিষয়টি কেউ টের পায়নি।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুল ইসলাম বলেন, 'ডা. আজাদের হত্যার রহস্য উদঘাটনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তবে এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।'
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মোক্তার হোসেন বলেন, 'ডা. আজাদ কীভাবে লিফটের নিচে গেলেন, নাকি অন্য কোনও বিষয় রয়েছে সবকিছু তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।'
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা জানান, গঠিত একটি বোর্ডের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। বোর্ডের সদস্যরা ঘটনাস্থলও পরির্দশন করেছেন। ময়নাতদন্তের বিভিন্ন আলামত ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য ঢাকার প্রধান রাসায়নিক পরীক্ষাগারে এবং শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজের হিস্টোপ্যাথলজি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। এই রিপোর্ট পাওয়া গেলে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
প্রসঙ্গত, ডা. এম এ আজাদ সজলের পরিবার ঢাকায় থাকেন। তিনি চাকরির কারণে বরিশালের মমতা হসপিটালের সপ্তম তলার একটি কক্ষে থাকতেন। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সেহেরির সময় তার স্ত্রী মোবাইলে চেষ্টা করেও তাকে না পেয়ে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে খুঁজে না পেয়ে পুলিশকে জানায়। পুলিশ তার কক্ষে দরজা ভেঙে ঢুকলেও তাকে ঘরে খুঁজে পায়নি। পরে হাসপাতালের লিফটের নিচ থেকে তার মৃতদেহ উদ্ধার হয়।
এ ঘটনায় ডা. আজাদের ছোট ভাই বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে মামলা করেছেন।








