সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের পারকোলা গ্রামে আজগর আলী খুনের ঘটনার দুই সপ্তাহ হলেও প্রধান আসামি সাবেক পৌর কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান পীযুষ ও তার সহোদররা এখনও ফেরার। এই পীযুস সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলারও অন্যতম আসামি। তবে তাকে দু’সপ্তাহেও পুলিশ গ্রেফতার করতে না পারলেও তার বাসা থেকে টিউবওয়েল লুটের পৃথক ঘটনার আসামি ধরতে গিয়ে নারীদের ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে লাঞ্ছিত হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পে হামলা ও তাদের মারধর করে আসামি ছিনিয়ে নিয়েও যায় গ্রামের বিক্ষুব্ধ নারীরা। শনিবার (১৬ মে) দুপুরের এ ঘটনায় অস্থায়ী ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমানসহ ৫ পুলিশ সদস্য লাঞ্ছিত হন। আর সন্ধ্যায় অতিরিক্ত পুলিশ পারকোলা গ্রামে গিয়ে হামলাকারী হিসেবে এক নারীকে আটক করেছে।
জানা গেছে, পীযুষের প্রতিপক্ষ বেলাল গ্রুপের সমর্থক আফসার আলীর ছেলে রাশেদুলকে টিউবওয়েল লুটের ঘটনায় আটক করে পুলিশ। তাকে থানায় আনার পথে দুপুরেই ছিনিয়ে নিয়ে যান নারীরা। সন্ধা সাড়ে ৭টায় রাশেদুলকে খুঁজে না পাওয়া গেলেও পুলিশের ওপর আক্রমণের ঘটনায় এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
লাঞ্ছনার শিকার উপ-পরিদর্শক আসাদুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, পারকোলা গ্রামের মনতাজের বাড়ির টিউবয়েল চুরি করার দায়ে আইগবাড়ি পাড়কোলা গ্রামের আফসার আলীর ছেলে রাশিদুলকে শনিবার (১৬ মে) দুপুরে আটক করা হয়। তাকে থানায় আনার আগেই ওই গ্রামের অর্ধশতাধিক বিক্ষুব্ধ নারী তাকে ছিনিয়ে নিতে লাঠিসোঁটা ও হাসুয়া নিয়ে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় তাদের মারধরে এএসআই নূর নবী, কনস্টেবল তুহিনুর রহমান, তৌহিদ হাসান ও রাকিবুল হাসানসহ ৫ পুলিশ সদস্য আহত হন। খবর পেয়ে পরে শাহজাদপুর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। হামলার নেপথ্যে নেতৃত্বদানকারী দুলু খাতুনকে বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে।
অপরদিকে, গ্রামবাসীর অভিযোগ, পুলিশের বেধড়ক মারধরে দেলোয়ারা খাতুন, মুন্নি খাতুন,আমেনা খাতুন, সোনালি খাতুন, সোনেকা ও শিশু রাবিব হোসেনসহ ৬ জন নিরীহ গ্রামবাসী আহত হন। শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন,‘ওই উদ্ভূত ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। নিরাপরাধ গ্রামবাসীকে পুলিশের মারধরের বিষয়টি সত্য নয়। পুলিশকে লাঞ্ছিত করে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পীযুষ ও অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ।’
প্রসঙ্গত: গ্রামীণ আধিপত্য বিস্তার/খাস পুকুরের দখল নিয়ে পূর্ববর্তী সংঘর্ষের জেরে সাবেক কমিশনার মোস্তাফিজুর রহমান পীযুষ ও বর্তমান কমিশনার বেলাল হোসেনের দ্বন্দ্বে ও সংঘর্ষের ঘটনায় মারধর ঠেকাতে গিয়ে গত ৩ মে খুন হন কৃষক আজগর আলী। পীযুষ গ্রুপের জ্ঞাত-অজ্ঞাত মিলে ১০৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়েছে। গ্রামটি বর্তমানে মোটামুটি পুরুষশূন্য হয়ে পড়ে।
সাংবাদিক শিমুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি পীযুষ জামিনে ছাড়া পেয়ে এলাকায় এসে আরেকটি খুনের দায়ে বর্তমানে ফেরার রয়েছে।








