দুস্থদের ত্রাণ, চাল ও টাকা আত্মাসাতের অভিযোগে একশজনের বেশি জনপ্রতিনিধি সাময়িক বরখাস্ত হলেও এখনও সচেতনতা বাড়েনি অনেকের। সচেতন না হয়ে আবারও একই ধরনের কাজের অভিযোগে অনেকেই বরখাস্ত হচ্ছেন, কেউ কেউ ধরা পড়ে যাচ্ছেন কারাগারে। আজ শনিবার (২০ জুন) দুস্থদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডির চাল আত্মসাতের অভিযোগে ফজিলাতুন্নেছা নামের এক নারী ইউপি সদস্যকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। টাঙ্গাইলের সখীপুরে সকালে তাকে আদালতের হাজির করা হলে বিচারক তাকে টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
ফজিলাতুন্নেছা উপজেলার কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বানিয়ারসিট বাজারের বণিক সমিতির সদস্যরা নারী ইউপি সদস্যের ভাতিজি শাহনাজ বেগমের হেফাজতে থাকা ভিজিডির ৩০কেজি ওজনের আট বস্তা চাল আটক করে উপজেলা প্রশাসনকে খবর দেয়। পরে শুক্রবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা ঘটনাস্থলে গিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ওই আট বস্তা চাল জব্দ করেন। এসময় অভিযুক্ত শাহনাজ বেগমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সদস্য ফজিলাতুন্নেছার বিরুদ্ধে শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা ফিরোজা আক্তার সখীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত নারী ইউপি সদস্যকে আটক করে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বলেন, ‘দুস্থ মানুষদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডির আট বস্তা চালসহ নারী ইউপি সদস্যদের ভাতিজি শাহনাজ বেগমকে আটক করা হয়। পরে ওই নারী ইউপি সদস্য এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়টি উঠে আসে। এ ঘটনায় শাহনাজ বেগমকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও ওই নারী ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা দুদক আইনে থানায় অভিযোগ দিলে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।’
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, ‘উপজেলা মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৬৪-এর ফৌজদারি কার্যবিধি ৫৪ ধারায় ওই নারী ইউপি সদস্যকে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।’








