ঢাবি‘র মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন হত্যা মামলার প্রধান আসামি তার স্বামী মোস্তাক হোসাইন ও শ্বশুর জাকির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে বগুড়ার নন্দীগ্রাম এলাকা থেকে মোস্তাক ও রাজশাহীর বাঘা এলাকা থেকে জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়। এর ফলে মামলার চার আসামিকেই গ্রেফতারে সক্ষম হলো পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে নাটোরের পুলিশ সুপার (এসপি) লিটন কুমার সাহা তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়াকে হত্যার ঘটনায় চার জনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যা মামলা দায়েরের পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে শহরের বড়হরিশপুর এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নিহতের শাশুড়ি সৈয়দা মালেকা আক্তার ও ননদ জাকিয়া ইয়াসমিন যুথিকে গ্রেফতার করা হয়। তবে প্রধান আসামি নিহতের স্বামী মোস্তাক হোসাইন ও শ্বশুর জাকির হোসেন আত্মগোপন করেছিল। তাদের গ্রেফতারে মাঠে নামে জেলা পুলিশ। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানের একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার সকালে বগুড়ার নন্দিগ্রাম এলাকা থেকে প্রধান আসামি মোস্তাক ও রাজশাহীর বাঘা এলাকা থেকে নিহতের শ্বশুর জাকিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানান, সুমাইয়ার শাশুড়ি ও ননদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছেন তিনি। আগামী রবিবার ওই রিমান্ড আবেদনের শুনানি হবে। এদিকে মামলার প্রধান আসামি মোস্তাক ও তার বাবাকেও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।
মামলায় এজাহারভুক্ত চার আসামিই গ্রেফতার হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার। নিহত সুমাইয়ার চাচা মোমিন জানান, এখন আদালতের মাধ্যমে হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলেই সুমাইয়ার আত্মা শান্তি পাবে। সেই অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।
উল্লেখ্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিষয়ে মাস্টার্সে প্রথম বিভাগ অর্জনকারী মেধাবী শিক্ষার্থী সুমাইয়া খাতুন তার শ্বশুরবাড়িতে গত ২২ জুন মারা যান। তার স্বামী, শাশুড়ি, শ্বশুর ও ননদের বিরুদ্ধে তাকে হত্যা করে লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সুমাইয়ার মা নুজহাত সুলতানা। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলার এজাহারও দায়ের করেন তিনি। সুমাইয়া সদর উপজেলার বলারীপাড়া মহল্লার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে। সুমাইয়ার পরিবারের দাবি, চাকরি করে স্বাবলম্বী হতে চাওয়ায় প্রথমে নুজহাতের গর্ভের সন্তান নষ্ট করে তার স্বামী। এরপর বাবার বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে সুমাইয়াকে হত্যা করা হয়।







