বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা সদরে গভীর রাতে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে বাবা ও মেয়েকে মারধর করতে করতে থানায় নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। কথিত ‘ধর্ষণের’ ঘটনায় মামলা দায়েরের নামে থানায় নিয়ে নির্যাতন করে তাদের দিয়ে লিখিত অভিযোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী বাবা ও মেয়ে।
ভুক্তভোগীর ছেলে (নাম প্রকাশ করা হলো না) জানান, গত ১৫ দিন আগে তার বোন এক প্রতিবেশীর বাড়িতে গেলে সেখানে তার সঙ্গে অশোভন ব্যবহার করে ওই বাড়ির এক যুবক। বোনের মানসম্মান এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তারা দুই পক্ষ স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমঝোতা করেন। তবে বিষয়টি পুলিশের কানে পৌঁছায়। গত শুক্রবার রাতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমান তার বাবাকে ফোন দিয়ে থানায় গিয়ে এ ঘটনায় অভিযোগ দিতে বলেন। তার বাবা জবাবে কোনও অভিযোগ নেই এবং থানায় অভিযোগ দেবেন না বলে জানিয়ে দেন।
পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে ওসি’র নেতৃত্বে এসআই শহিদ এবং এএসআই অনিমেষসহ চারজন পুলিশ সদস্য সাদা পোশাকে তাদের বাড়ি গিয়ে ডাকাডাকি করে। তারা রাতের বেলা দরজা খুলতে রাজি না হওয়ায় পুলিশ তাদের ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকে। এরপর আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভেতরের আরও একটি দরজা ভেঙে তার বাবাকে আটক করে। এ সময় তার বাবাকে বেদম মারধর করা হয়। পরে তার বাবা এবং বোনকে ওই রাতেই টানাটানি করে থানায় নিয়ে যায় ওসি ও দুই এসআই।
শনিবার সকালে ভুক্তভোগীর ছেলে তার বাবা ও বোনের সঙ্গে দেখা করতে থানার সামনে গেলে তাকেও ধরে মারধর করে থানায় নিয়ে আটকে রাখে পুলিশ। পরে তার কাছ থেকেও সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেয়। এর আগে তার বাবার কাছ থেকেও জোর করে অভিযোগ দাখিল করিয়ে স্বাক্ষর আদায় করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
এ ব্যাপারে জানতে মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি আবিদুর রহমানের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন এ বিষয়ে তার কোনও বক্তব্য নেই। যা বলার তার ঊর্ধ্বতন অফিসার বলবেন।
পরে তার ঊর্ধ্বতন অফিসার বরিশালের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাঈমুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। এতে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তার অবৈধ গর্ভপাত করা হয়। তারা ভয়ে মামলা করতে পারেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে পুলিশের কাছে অভিযোগ দিলে থানায় মামলা দায়ের হয়। ওই ব্যক্তির ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ কিংবা তাদের মারধর করে জোরপূর্বক অভিযোগ আদায়ের ঘটনা সঠিক নয়।








