লালমনিরহাটে ৪১ পরিবারের ঘরবাড়ি ধরলা-তিস্তা নদীতে বিলীন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি
২৮ জুন ২০২০, ০১:৫২আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ০২:১৮

লালমনিরহাটে নদী ভাঙন

লালমনিরহাটে শনিবারও বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। গত ৩৬ ঘণ্টায় তিস্তা নদী তীর বসবাসকারী ২৫টি পরিবার ও ধরলা নদীর তীরে বসবাসকারী ১৬টি পরিবারে বাড়িঘর ও জমি তীব্র নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) বিকাল ৪টায় লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এএইচএম আমিনুর রশীদ বলেন, শনিবার (২৭জুন) বিকাল ৪টায় তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ৮০ সেন্টিমিটার। যা স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টামিটার থেকে বিপদসীমার ২০সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৯ জুন পর্যন্ত এই অবস্থা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে লালমনিরহাট ও নীলফামারী নদী তীরবর্তী লোকজনের জন্য তেমন ঝুঁকির কোনও আশঙ্কা নেই।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদী তীরবর্তী পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, ধরলা নদীর তীরবর্তী বুড়িমারী, পাটগ্রাম, শ্রীরামপুর, জোংড়া, হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা নদী তীরবর্তী সানিয়াজান, সিঙ্গিমারী, গোড্ডিমারী, সিন্দর্ণা, পাটিকাপাড়া, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জের ভোটমারী, তুষভান্ডার, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচা ও লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা, রাজপুর, খুনিয়াগাছ ও সদরে ধরলা নদীর তীরবর্তী মোগলহাট, কুলাঘাট, বড়বাড়ী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে গোকুন্ডা ও বড়বাড়ী ইউনিয়নে। এখন পর্যন্ত তিস্তা নদীর তীব্র ভাঙনে গোকুন্ডা ইউনিয়নের ২৫টি পরিবারের বাড়ি-ঘর ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। একই অবস্থায় ধরলা নদীর তীব্র ভাঙনে ১৬টি পরিবারের বাড়ি-ঘর ও জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।                              

পাটিকাপাড়া ইউনিয়নের পারুলিয়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রশীদ বলেন, গত কয়েক দিন থেকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এখন পর্যন্ত ত্রাণ বিতরণ শুরু করা হয়নি।

এদিকে বড়বাড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মিঠু বলেন, ধরলার তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।             

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মো. আবু জাফর বলেন, লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। শনিবার বিকাল পর্যন্ত ধরলা ও তিস্তা নদীর তীরবর্তী এলাকার প্রায় ৮ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়নে ধরলা নদীর ভাঙনে ১৬টি ও গোকুন্ডা ইউনিয়নে তিস্তা নদীর ভাঙনে ২৫ টি পরিবার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইতোমধ্যে ৮০ মেট্রিক টন জিআর চাল ও ৪ লাখ টাকা জিআর ক্যাশ বরাদ্দ করা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, জেলার পাঁচ উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বন্যা কবলিত ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদেরকে ক্ষতিগ্রস্তদের  তালিকা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।   

লালমনিরহাট জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন এমপি বলেন, জেলা প্রশাসকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের বন্যা কবলিত মানুষের পাশে থাকার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে, যেন জেলার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত একজন মানুষও কোনোভাবে সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হয়।

     

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
এই অর্জন বাংলাদেশের শক্তিশালী কূটনৈতিক অবস্থানকে তুলে ধরে: খলিলুর রহমান  
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
‘মুখ খোলো মমতা, জানতে চায় জনতা’ স্লোগানে ইনকিলাব মঞ্চের মশাল মিছিল
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
আর্জেন্টিনা আরও চার ফুটবলারকে প্রস্তুত রাখছে
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী