জয়নবের ‘সোনা বাবু’, দাম হাঁকছেন ১৫ লাখ!

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
০২ জুলাই ২০২০, ২০:২৩আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২০, ০০:৪৮

জয়নব বেগমের ‘সোনাবাবু’

নিজের খামারেই জন্ম। ভীষণ যত্ন করে বড় করেছেন। স্বামী গেলেন বিদেশে। সেই একাকিত্ব ভুলতে পুরো মনোযোগ পেলো ছোট্ট প্রাণীটা। শান্ত প্রকৃতির বলে ওর একটা নাম দিলেন ‘সোনা বাবু’। সাড়ে তিন বছর পর ‘সোনাবাবু’ এখন পরিণত ষাঁড়। তাই তাকে এবার কোরবানির ঈদে হাটে তুলতে চান জয়নব বেগম। উপজেলায় এরচেয়ে বড় কোনও গরু নেই। তিনি ‘সোনা বাবু’র দাম হেঁকেছেন ১৫ লাখ টাকা।

টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটি বটতলা গ্রামে প্রবাসী কামরুল ইসলামের স্ত্রী জয়নব বেগমের খামার। সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা গেলো, সাড়ে ৯ ফুট লম্বা ও সাড়ে ৫ ফুট উচ্চতার এই সোনা বাবুর যত্ন-আত্তিতে ব্যস্ত জয়নব বেগম। আসন্ন কোরবানির ঈদের জন্য  গরুটিকে প্রস্তুত করে তুলছেন তিনি। জয়নব জানালেন, ‘সোনা বাবু’র ওজন প্রায় ৩৫ মণ। হাটে তোলার আগেই এর দাম ঠিক করে রেখেছেন তিনি। ১৫ লাখ টাকার নিচে তার প্রিয় পশুটিকে বিক্রির কোনও ইচ্ছা নেই।

জয়নব জানান, সাড়ে তিন বছর আগে জয়নব বেগমের খামারেই জন্ম হয় কালো ও সাদা রঙের ফিজিএম প্রজাতির এই ষাঁড়টির। এরপর থেকে কোনও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে তাকে লালন-পালন করা হচ্ছে। শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় শখ করে ষাঁড়টির নাম রাখেন ‘সোনা বাবু’। জয়নবের স্বামী কামরুল ইসলাম বিদেশে পাড়ি জমানোর পর থেকে এই সোনা বাবুকে লালন-পালন শুরু করেন তিনি। এ কাজে সহযোগিতা করেন তার শ্বশুর-শাশুড়ি।

গরুর মালিক জয়নব বেগম বলেন, ‘খুব শান্ত প্রকৃতির হওয়ায় শখ করে ষাঁড়টির নাম রেখেছি ‘সোনা বাবু’। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দফতরের পরামর্শ নিয়েছি সব সময়। কোনও প্রকার ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করা হচ্ছে।’

‘সোনা বাবু’র লালন পালন করছেন মালিক জয়নব বেগম।

তিনি আরও বলেন, ‘ষাঁড়টি কিনতে বাড়িতে ব্যবসায়ী এসেছিলেন। তারা ষাঁড়টির দাম ৮ লাখ টাকা বলেছেন। কিন্তু আমার চাহিদা ১৫ লাখ টাকা।’ এই সোনা বাবুই উপজেলায় পালন করা সবচেয়ে বড় গরু বলে দাবি করেছেন জয়নব বেগম।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এনায়েত করিম বলেন, ‘ষাঁড়টির লালন-পালনের বিষয়ে গৃহবধূ জয়নব বেগমকে নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া হতো। তিনি কোনও ক্ষতিকর ওষুধ প্রয়োগ ছাড়াই দেশীয় খাবার খাইয়ে ষাঁড়টিকে লালন-পালন করেছেন।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাও স্বীকার করেন, এই ষাঁড়টিই দেলদুয়ার উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বড়।  করোনাকালীন সময়েও এই গৃহবধূ ষাঁড়টির ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে প্রত্যাশা এই কর্মকর্তার।

/টিএন/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: আশীর্বাদ না অভিশাপ? 
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে কিমের বড় ঘোষণা
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা, রায় রবিবার
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
বজ্রনিনাদে ভারতে বর্ষার প্রবেশ, কেরালাজুড়ে হচ্ছে ভারি বৃষ্টি
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান