জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। যমুনা নদীর পানি খানিকটা কমলেও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি আবারও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। উভয় নদীই বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
জামালপুরে যমুনা নদীর পানি আগামী দুই দিন কমার পর আবারও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে দুর্ভোগ আরও বাড়বে বানভাসিদের। বন্যায় এখন পর্যন্ত জেলার দশ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে আছে। প্রবল বৃষ্টিপাত আর বন্যায় মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানির কারণে বাসা বাড়িতে রান্নার কাজে তীব্র ব্যাঘাতের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার সকালে কয়েক ঘণ্টা প্রবল বৃষ্টিপাতের কারণে জামালপুর পৌর শহরের রাস্তা-ঘাট পানিতে ডুবে যায়। এছাড়াও বৃষ্টির কারণে শহরের অনেক বাসা বাড়িতেও পানি ঢুকে পড়ে। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় শহরবাসীদের।
জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) পানি পরিমাপক (গেজ রিডার) আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সোমবার বিকাল ৫ টায় জেলার বাহাদুরাবাদ ঘাট পয়েন্টে যমুনা নদীর পানি বিপৎসীমার ১০৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং জামালপুর ফেরীঘাট পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে দেখা যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ৪ সেন্টিমিটার কমেছে এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ২ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
এদিকে,বানভাসীদের দূর্ভোগ কমাতে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে জেলা প্রশাসন।
সোমবার সকালে জামালপুর পৌরসভার নাওভাঙ্গার চর এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি এখনও না কমায় শতাধিক গ্রামবাসী এক মাস যাবত আশ্রয় নিয়ে আছে শহর রক্ষা বাঁধে। সেখানকার আশ্রয় নেওয়া জবেদ সেক, হায়দার আলী ও আকবর আলী প্রমুখ জানান,প্রায় এক মাস যাবত শহর রক্ষা বাঁধে তারা পরিবারসহ আশ্রয় নিয়েছেন।তবে এভাবে থাকতে থাকতে অতিষ্ঠ হয়ে গেছে তাদের জীবন। দীর্ঘদিন বন্যা থাকায় নষ্ট হচ্ছে তাদের বাড়ি-ঘরের আসবাবপত্র। একবার সরকারি ত্রাণ সহায়তা পেলেও তা চাহিদার তুলনায় কম। তারা সকলে আবারও ত্রাণের দাবি জানান।
এদিকে বন্যার কারণে দুর্গত এলাকায় ৫ হাজার ৯৭ টি নলকুপ ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল বলে জানা গেছে।
অপরদিকে বন্যার কারণে ছয় হাজার ২৯৫টি পায়খানা ডুবে যাওয়ায় দুর্গত এলাকার মানুষদের পয়ঃনিষ্কাশনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে।
ত্রাণের বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো.নায়েব আলী জানান, বানভাসিদের দুর্ভোগ কমাতে সরকারি ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা কায়ছার মোহাম্মদ মঈনুল হাসান জানান, বন্যার কারণে পুকুরের অবকাঠামো ভেঙে মাছ ভেসে যাওয়ায় মৎস চাষীরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্য চাষীদেরকে ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাদেরকে স্বল্প সুদে ব্যাংক ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে।
জামালুপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ জানিয়েছেন, আগামী দুই দিন যমুনা নদী ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কমতে পারে। কিন্তু এরপর যমুনার নদীর পানি আবারও বাড়বে এবং বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।







