ফুটপাত দখল, তীব্র যানজট আর জলাবদ্ধতায় নাকাল হয়ে পড়েছে পাবনা শহরবাসী। প্রথম শ্রেণির পৌরসভার তালিকায় পাবনা পৌরসভার নাম থাকলেও নাগরিক সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত পৌরবাসী। দিন দিন অটোবাইক, ইজিবাইক আর ব্যাটারি চালিত রিকশা বৃদ্ধির ফলে জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জলাবদ্ধতা আর ফুটপাতে ও ভ্রাম্যমাণ হকারদের উপদ্রপ দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে।
অধ্যাপক শিবজিত নাগ বলেন, 'শহরের প্রেসক্লাবের সামনে থেকে বীণাবাণী সিনেমা হল পর্যন্ত যানজট সৃষ্টি হয়। যানজটের প্রধান কারণ ব্যাটারি চালিত অটোবাইক ও অটো রিকশা। শহর যানজটমুক্ত করতে হলে সুপরিকল্পিতভাবে টেকসই উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।'
পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, 'অনেক পুরোনো পাবনা পৌরসভা। অথচ সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা সংশয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের গুরুত্বপূর্ণ গলি ও সড়কে এমনকি মেইন সড়ক পর্যন্ত জলাবদ্ধ হয়ে যায়। আধুনিক ও যুগোপযোগী ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় জনসাধারণকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়।'
এদিকে পাবনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সিনিয়র সহসভাপতি আলী মর্তুজা বিশ্বাস সনি বলেন, 'শহরের প্রাণকেন্দ্র হামিদ রোড এলাকার দোকানপাটের মালিকরা দিন, সাপ্তাহিক ও মাসিক চুক্তিতে দোকানের সামনে ফুটপাত ভাড়া দিয়ে আসছেন। এমন অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। ইতোমধ্যে আমরা চেম্বারের পক্ষ থেকে একটি উপকমিটি করে দিয়েছি। ওই কমিটি প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীদের ফুটপাত ভাড়া থেকে বিরত এবং মুক্ত রাখতে সর্তক করে দিচ্ছেন। তারা যদি না মানেন, তাহলে আমরা শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।'
শহরে তীব্র যানজটের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'শহরের ভেতরে যানজট নিরসনে রাস্তার দুপাশ প্রশস্ত করা খুবই দরকার। তবে জেলা পুলিশ, পৌরসভা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা যানজট নিরসনে কাজ করছে।'
পাবনা পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার জিয়াউল ইসলাম পলাশ বলেন, 'বাজেট না থাকায় যুগোপযোগী ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা করা সম্ভব হচ্ছে না। পৌরসভার পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ে বাজেট চাওয়া হয়েছে। বাজেট পেলেই নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।'
জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ শহরের ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে বলেন, 'জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যেই ফুটপাত দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এটা শুধু জেলা প্রশাসনই নয়, পাবনা পৌরসভা কর্তৃপক্ষকেও এগিয়ে আসতে হবে। যৌথভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত করতে পারলে শহরবাসীর দুর্ভোগ কমে আসবে।'








