নারায়ণগঞ্জের দেওভোগে চাঞ্চল্যকর জীবিত কিশোরীকে হত্যার স্বীকারোক্তি আদায়ের ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর আব্দুল হাইকে এ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তাদের আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে উপস্থিত হয়ে ওই কিশোরী ধর্ষণ, হত্যা, আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দি ও জীবিত ফিরে আসার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কাওছার আলম এই আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. রোকন উদ্দিন।
এদিন কিশোরীর কথিত স্বামী ইকবাল পণ্ডিতকে আদালতে হাজির করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য যে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিল তার রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ৩১ আগস্ট ধার্য করেছেন আদালত। একই দিন মামলায় স্বীকারোক্তি দেওয়া তিন আসামি আব্দুল্লাহ, নৌকার মাঝি খলিল ও অটোচালক রকিব উদ্দিনের পি/ডব্লিউসহ জামিন শুনানিরও দিন ধার্য করা হয়েছে।
মো. রোকন উদ্দিন বলেন, ‘ওই কিশোরী ইকবাল পণ্ডিতের সঙ্গে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ৫১ দিন ছিল। এই ঘটনায় তাকে জীবিত উদ্ধারের পর পুলিশ একই মামলায় ইকবালকে গ্রেফতার করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে। এছাড়া গত ২৫ আগস্ট তিন আসামির জামিন আবেদন করা হয়। বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাওসার আলম রিমান্ড শুনানি এবং তিন আসামির পি/ডব্লিউসহ জামিন শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন।’
এদিকে ওই কিশোরী ধর্ষণ, হত্যা ও জীবিত ফিরে আসার পর তিন আসামিকে না ছেড়ে পুলিশ অন্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার করছে বলে অভিযোগ করেন তাদের স্বজনরা। ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় গ্রেফতার তিন আসামির মুক্তি ও ন্যায়বিচারের দাবিতে আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেন আসামিদের স্বজন ও এলাকাবাসী। মানববন্ধনে দাবি করা হয়, এ মামলায় কৃতিত্ব নেওয়ার জন্য পুলিশ তড়িঘড়ি করে তিন আসামিকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে মিথ্যা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকের্ড করেছে। ৫১ দিন নিখোঁজ কিশোরী জীবিত ফিরে আসায় এটি স্পষ্ট হয়, পুলিশ মিথ্যা স্বীকারোক্তি রেকর্ড করেছে। পুলিশ তিন আসামিকে না ছেড়ে দিয়ে উল্টো অন্য মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আসামি আব্দুল্লাহর বাবা আমজাদ হোসনে দাবি করেন, ‘কিশোরী জীবিত মায়ের বুকে ফিরে গেছে। কিন্তু আমরা আমাদের ছেলেদের এখনও ফেরত পাইনি।’ তিনি এ মামলায় ন্যায়বিচারের দাবি করে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, শহরের দেওভোগ এলাকার ১৫ বছর বয়সী কিশোরী ৪ জুলাই বিকালে বাসা থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়। দীর্ঘদিন খোঁজ করে মেয়ের সন্ধান না পেয়ে এক মাস পর ৬ আগস্ট থানায় অপহরণ মামলা করেন কিশোরীর বাবা। এ ঘটনায় কিশোরীর মায়ের মোবাইলফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে গত ৭ ও ৮ আগস্ট পুলিশ একই এলাকার রকিব, আবদুল্লাহ ও খলিল নামে তিন জনকে গ্রেফতার করে। এদের মধ্যে খলিল নৌকার মাঝি। গ্রেফতারের পর তিন আসামি দুই দফা রিমান্ড শেষে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করে ৯ আগস্ট আদালতে জবানবন্দি দেয়। তবে পরে ওই কিশোরী জীবিত উদ্ধার হলে পুলিশের তদন্ত ও রিমান্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আরও খবর:
ধর্ষণ ও হত্যার শিকার কিশোরী জীবিত উদ্ধার, তদন্ত কর্মকর্তা প্রত্যাহার
আদালতে ধর্ষণ ও হত্যার স্বীকারোক্তির পর কিশোরী জীবিত উদ্ধার!
ধর্ষণ ও হত্যার স্বীকারোক্তি আদায়ের পর কিশোরীকে জীবিত উদ্ধার, ঘটনা তদন্তে ২ কমিটি
জীবিত স্কুলছাত্রীকে হত্যার স্বীকারোক্তি, নথি চেয়ে আবেদনের শুনানি বৃহস্পতিবার








