কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকারের বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দসহ বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হযরত আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে উপ-পরিচালকের কার্যালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চলের দাফতরিক নির্দেশনায় বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে তদন্ত কাজ শুরু করেছেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (ডিইও) শামসুল আলম। ডিইও শামসুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে শুরু হওয়া তদন্ত কার্যক্রমে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা অফিসার অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে প্রায় ৩ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এসময় তিনি অভিযোগের বিপরীতে প্রধান শিক্ষককে প্রয়োজনীয় সব তথ্য প্রমাণ সরবরাহের নির্দেশনা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা শামসুল আলম জানান, ‘প্রাথমিক তদন্তে কিছু কিছু অনিয়ম পেয়েছি। আবার কিছু অভিযোগে তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের আভাস পাওয়া গেছে। আশা করছি সব কাগজপত্র পাওয়ার পর আসল কারণগুলো বেরিয়ে আসবে।’
কত দিনের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম শেষ হতে পারে, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিইও বলেন, ‘অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষককে চলতি মাসের ২০ তারিখের মধ্যে প্রতিষ্ঠানের সব হিসাবের কাগজ (তার দায়িত্ব নেওয়ার সময় থেকে সর্বশেষ) জমা দিতে বলা হয়েছে। সব কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর ছয় কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।’
এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের মাঠে গরুর হাট বন্ধের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন এই তদন্ত কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে নিজের বিরুদ্ধে আরোপিত অভিযোগ ভুয়া, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবর মাসে ম্যানেজিং কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একটি পর্যবেক্ষণ ও নিরীক্ষণ কমিটি করে দুর্গাপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের যাবতীয় আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। নিরীক্ষণ কমিটি তদন্ত করে প্রধান শিক্ষক উৎপল কান্তি সরকার ও সাবেক সভাপতি খোরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের অনুকূলে সরকারি বরাদ্দ ও বিদ্যালয়ের নিজস্ব আয়ের প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বর্তমান সভাপতি কার্যকর কোনও ব্যবস্থা না নিলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও নিরীক্ষণ কমিটির আহ্বায়ক হযরত আলী উপজেলা প্রশাসন এবং উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা প্রশাসন তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর প্রতিবেদন পাঠায়। আজ উপ-পরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা, রংপুর অঞ্চল বরাবর করা অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন প্রধান শিক্ষক!







