ছাত্রীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে নগরীর রূপাতলীতে স্থাপিত বেসরকারি জমজম নার্সিং ইনস্টিটিউটের সাবেক শিক্ষক মিজানুর রহমান সজলকে কান ধরে তওবা করিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার সহযোগীরা। বিষয়টি ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দিলে তা ভাইরাল হয়। সজল ওই ইনস্টিটিউটের কমিউনিটি মেডিসিনের সাবেক শিক্ষক হলেও করোনাকালে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের আয়লা গ্রামের বাসিন্দা।
ভিডিওতে দেখা যায় শিক্ষক সজল তওবা করে বলছেন, আমি কোনও মেয়ের দিকে কু-নজরে তাকাবো না, কোনও মেয়েকে থ্রেট দেবো না, কোনও মেয়ে ফেল করলে তার দায়দায়িত্ব আমার, এ ধরনের কথা বলে অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করবো না। কোনও মেয়ের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক থাকলে এক্সট্রা নম্বর দেবো না। আমি আজ থেকে ভালো হয়ে গেলাম। আল্লাহর কসম খাইলাম।
গত ৯ সেপ্টেম্বর এমন একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হয়। এরপর ভিডিওটি বহু লোক শেয়ার করেন। পাশাপাশি তারা ওই শিক্ষকের বিচার দাবি করেছেন। তার বিচার না হলে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে বলেও ঘোষণা দিয়েছেন।
নার্সিং ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত একাধিক শিক্ষার্থী জানান, ওই শিক্ষক কারণে-অকারণে ছাত্রীদের যৌন হয়রানি করতো। বেশি নম্বর পাইয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে ভালো ফলাফলের প্রলোভন দেখাতো। এমনকি অকৃতকার্য হলেও যাদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, তাদের পাস করিয়ে দেওয়ার মতো অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু লজ্জার ভয়ে কোনও ছাত্রী তার বিরুদ্ধে কোনও নালিশ জানায়নি। এ কারণে ওই শিক্ষকের বিষয় মেডিসিন ইউনিটের ছাত্র-ছাত্রীরা ক্ষুব্ধ ছিল। এর জের ধরে ওই ঘটনা ঘটে।
তারা আরও জানান, ইমতিয়াজ ইমনের স্ত্রী মনিরা আক্তার। তারা দু’জনই ওই ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থী। মনিরাকেও শিক্ষক সজল যৌন হয়রানি করেন। এতে ক্ষুব্ধ ছিল ইমন। এর জের ধরে গত ২৫ আগস্ট আকস্মিকভাবেই নগরীর চৌমাথা এলাকা সজলকে পেয়ে যান ইমন। এ সময় তার সঙ্গে ৫-৬ বন্ধুও ছিল। তারা সজলকে ধরে গোরস্থান রোড এলাকায় নিয়ে গিয়ে কান ধরে ওঠবস করান। এ সময় সজলকে চড়-থাপ্পরও মারা হয়। এরপর তওবা পড়িয়ে তার স্ত্রী মনিরার পায়ে ধরে মাপ চাইয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন ইমন। তিনি জানান, ওই শিক্ষকের জন্য তার স্ত্রী এখনও পাস করতে পারেনি। সে তার বিভাগের অনেক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করতো। কিন্তু ভালো ফলাফল করা এবং অকৃতকার্য করে দেওয়ার ভয়ে কেউ কোনও কথা বলতো না। ওই শিক্ষক এখন আর জমজম নার্সিংয়ে চাকরি করেন না। এ কারণে তাকে তওবা পড়িয়েছি, যাতে করে জীবনে কোনোদিন কোনও মেয়ের দিকে কুনজরে না তাকায় এবং কারো সঙ্গে অশ্লীল আচরণ না করে। তবে ওই ভিডিও তিনি ফেসবুকে দেননি বলে দাবি করেন।
নার্সিং কলেজটির পরিচালক সাজ্জাদুল হক জানান, ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে যে শিক্ষককে দেখা গেছে তিনি দুই বছর আগে চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন। তবে করোনাকালে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে অনলাইনে ৮-১০টি ক্লাস নিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনও ছাত্রী কোও সময়ই অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতো। আমরাও বিষয়টি দেখে ও শুনে হতবাক হয়েছি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মিজানুর রহমান সজল। তিনি বলেন, ‘ইমন ও তার স্ত্রী মনিরা লেখাপড়ায় ভালো ছিল না। এ কারণে তারা খারাপ ফলাফল করতো। তাদেরকে মনোযোগী হতে বললে, তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। এর জের ধরেই আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে।’








