নীলফামারীর ডোমারে পাঙ্গা চৌপথি আব্দুল মজিদ আলীম মাদ্রাসায় নিয়োগ বাণিজ্যের প্রতিবাদে মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে চাকরি বঞ্চিত প্রার্থীসহ এলাকাবাসী।
সোমবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে ওই মাদ্রাসার সামনে ডোমার-ডিমলা সড়কে মানববন্ধনটি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগে অর্ধ কোটি টাকার বাণিজ্যের অভিযোগ করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আব্দুল আজিজ, লাভলী বেগম, নুর জামান, এলাকাবাসী তফিজার রহমান, ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল মতিন প্রমুখ।
বক্তারা জানান, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ সুকৌশলে নিয়োগ পরীক্ষাটি গত ৬ নভেম্বর নিজ এলাকা থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে রংপুর জেলার তারাগঞ্জ ও এ ফাজিল মাদ্রাসায় নেয়। এতে অফিস সহকারী কাম হিসাব সহকারী, নিরাপত্তাকর্মী ও আয়া পদে তিনজনকে অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই তিনটি পদে ২৮ জন প্রার্থী আবেদন করলেও দূরত্বের কারণে পরীক্ষায় অংশ নেন ১৮ জন।
তারা সেখানেই ক্ষান্ত না হয়ে ওই তিনটি পদে মোট ১২ জনের কাছ থেকে অর্ধ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর বঞ্চিতরা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম রিয়াজুল ইসলাম ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সভাপতি পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি দুলাল হোসেনকে পরীক্ষা কেন্দ্রে অবরুদ্ধ করে বাণিজ্যের ওই নিয়োগ বাতিলসহ টাকা ফেরত চান। এসময় টাকা ফেরতসহ পরীক্ষা বাতিলের আশ্বাসে ছাড়া পান তারা। কিন্তু অদ্যাবধি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আয়া পদে চাকরি প্রত্যাশী লাভলী বেগমের স্বামী সাজেদুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে আয়া পদে নিয়োগের জন্য সভাপতি দুলাল হোসেন আট লাখ টাকা নেন। চাকরি না হলে টাকা ফেরত দেবেন মর্মে দুলাল হোসেন আমাকে তার নিজের ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষর করা আট লাখ টাকার চেক প্রদান করেন। আমার স্ত্রীর চাকরি হয়নি, এখন টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা করছেন।’
এ বিষয়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এ কে এম রিয়াজুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি দুলাল হোসেন নিয়োগ বাণিজ্যে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের মাদ্রাসার কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষাটি গত ৬ নভেম্বর রংপুর জেলার তারাগঞ্জ ও ফাজিল মাদ্রাসায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফলাফল পেয়ে পরীক্ষার্থীরা আমাকে নয়, অধ্যক্ষকে অবরুদ্ধ করে রাখেন। তিনি আগামী মঙ্গলবার (১০ নভেম্বর) দুপুরের দিকে টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করলে অবরুদ্ধকারীরা অধ্যক্ষকে ছেড়ে দেন।’








