বগুড়ায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা বুলবুলি খাতুনের পর বৃহস্পতিবার (১২ নভেম্বর) সকালে ছয় বছরের শিশুকন্যা মেঘলা আকতার নিপুও মারা গেছে। বগুড়ায় ঋণের বোঝা সইতে না পেরে লেদমিস্ত্রি মহিদুল হাসান কিনু (৩০) ও তার স্ত্রী বুলবুলি খাতুন (২০) সহমরণের জন্য ১০ নভেম্বর রাতে শহরের নওদাপাড়ার বাড়িতে বিষাক্ত গ্যাস ট্যাবলেট সেবন করেন। প্রতিবেশী ও পুলিশ জানায়, তারা তাদের একমাত্র মেয়েকেও ট্যাবলেট খাইয়েছিলেন।
পরে জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুলবুলি ১১ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন। পরে বৃহস্পতিবার মেয়ে নিপুও মারা যায়। একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিনুর অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, ময়নাতদন্তের পর মা ও মেয়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা হয়েছে। তিনি আরও জানান, কিনু সুস্থ হলে তার বিরুদ্ধে স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার অভিযোগে মামলা হতে পারে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, বগুড়া শহরের নওদাপাড়ার লেদমিস্ত্রি মহিদুল হাসান কিনু সদরের লাহিড়িপাড়ায় বুলবুলি খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের সংসারে মেঘলা আকতার নিপু নামে ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা ছিল। কিনু বিভিন্ন এনজিও এবং সমিতি থেকে চার লাখ টাকা ঋণ নিয়ে মেঘলা ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কশপ দেন। করোনার কারণে কাজ না থাকায় তিনি ঋণের কিস্তি টানতে পারছিলেন না। কিস্তি আদায়কারীদের চাপে কিনু ও অন্তঃসত্ত্বা বুলবুলি হতাশ হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা সহমরণের সিদ্ধান্ত নেন। ১০ নভেম্বর রাতে একটি গ্যাস ট্যাবলেট ভেঙে কিনু ও বুলবুলি খান। কিছু অংশ তাদের শিশুকন্যা নিপুকেও খাওয়ান। বিষক্রিয়ায় তারা তিন জন অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৪টার দিকে তাদের বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এদিকে শিশুকন্যাসহ মায়ের মৃত্যুতে শুধু তাদের পরিবারে নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আরও পড়ুন:
গ্যাস ট্যাবলেট সেবনে সহমরণের চেষ্টা, অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু








