বর্তমান প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে এবং পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মমতার ভয়াবহতার সঙ্গে পরিচিত করতে সংস্কার ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে শত্রুদের ব্যবহৃত বাংকার ও টর্চার সেল। বরিশাল মুক্ত দিবস উপলক্ষে মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলে নগরীর বান্দ রোডের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা) কলোনি এলাকায় এই বাংকার ও টর্চার সেল সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক, বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং বরিশাল সাংস্কৃতিক সংগঠন সমন্বয় পরিষদ বাংকার ও টর্চার সেল সংস্কার ও সংরক্ষণ প্রকল্পে সহযোগিতা করে। এক একর ৩০ শতাংশ জমি ওপর তিন কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয় হয় এ প্রকল্পে।
১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন বরিশালের নিরস্ত্র বাঙালী নারী-পুরুষদের ধরে এনে এই টর্চার সেলে নির্মম নির্যাতন করা হতো। মুক্তিযুদ্ধের নির্মমতার সাক্ষী এই টর্চার সেলটি অযত্ন-অবহেলায় নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। তবে এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নষ্ট হতে বসায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দাবির মুখে সিটি করপোরেশন এই টর্চার সেল ও বাংকার সংস্কার করে।
৮ ডিসেম্বর বরিশাল মুক্ত দিবসে টর্চার সেল ও বাংকার সংস্কার ও সংরক্ষণ কাজের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিটি মেয়র ছাড়াও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন, পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান, পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলামসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুক্তিযোদ্ধা, সুশীল সমাজ এবং সরকারি বিভিন্ন দফতরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালের এই দিনে দখলদার পাক বাহিনী অগ্রসরমান মুক্তিযোদ্ধাদের ভয়ে এ শহর থেকে ডেরা গুটিয়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর বিকেল ৪টা থেকে বরিশালে কারফিউ জারি করেছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। তবে সীমান্তে মিত্র বাহিনীর আক্রমণ শুরু হওয়ার পর সেদিন সন্ধ্যা থেকেই পাক সেনারা বরিশাল ত্যাগের প্রস্তুতি গ্রহণ করে।
বরিশাল শহরকেন্দ্রিক বিভিন্ন সড়ক পথ চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ায় হানাদাররা নৌ-পথে পালাবার পরিকল্পনা করে। এ উদ্দেশ্যে যাত্রীবাহী স্টিমার ইরানী, কিউইসহ লঞ্চ ও কার্গো বরিশাল স্টিমার ঘাটে প্রস্তুত রাখা হয়। পরে এসব নৌযানে করেই পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, পাক মিলিশিয়াসহ শহরের দালাল ও রাজাকার কমান্ডাররা বরিশাল ত্যাগ করে। পাক সেনাবাহিনীর নৌযানগুলোর একাংশ চাঁদপুরের কাছে মেঘনা মোহনায় ভারতীয় মিত্রবাহিনীর বিমান হামলার কবলে পড়ে এবং কিউই জাহাজসহ গানবোট ও কার্গো ধ্বংস হয়।
অপর অংশ বরিশালের কদমতলা নদীতে ভারতীয় বিমানের বোমার আঘাতের মুখে পড়ে। এতে পাকবাহিনীকে নিয়ে নৌযানগুলো নিমজ্জিত হয়। ফলে এসব জাহাজে পলায়নরত সকল পাক সেনা, মিলিশিয়া, রাজাকার কমান্ডার ও দালালরা নিহত হয়। পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর শহর ত্যাগের খবরে ৮ মাস ধরে অবরুদ্ধ বরিশালের মুক্তিকামী মানুষ বিজয়ের আনন্দে শ্লোগান দিয়ে দলে দলে রাস্তায় নেমে আসে।







