১৬ ডিসেম্বর, মহান বিজয় দিবস, বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিন। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্তির দিন। এইদিন বিশ্বের মানচিত্রে সৃষ্টি হয় নতুন একটি সার্বভৌম দেশ ‘বাংলাদেশ’। যা বাঙালি জাতিকে এনে দেয় আত্মপরিচয়ের ঠিকানা। যারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে এ বিজয় আর বাঙালি জাতির সবচেয়ে আনন্দের দিন উপহার দিয়েছেন, সেইসব শহীদকে বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ করবে দেশের সর্বস্তরের মানুষ। প্রতিবারের মতো এবারও মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জাতির শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হতে পুরোপুরি প্রস্তুত সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ। জাতির গৌরব আর অহংকারের এ-দিনটিতে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে নামবে লাখো মানুষের ঢল। তবে করোনা পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিজয় দিবস উদযাপনে স্মৃতিসৌধ পুরোপুরি প্রস্তুত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে গণপূর্ত বিভাগের কর্মীদের টানা কয়েকদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমে নতুন রূপ ধারণ করেছে স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ। শেষ করা হয়েছে পরিষ্কার- পরিচ্ছন্নতা ও শোভা বর্ধনের কাজ।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী শামীম আকতার বলেন, মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এবার স্মৃতিসৌধকে নতুন আঙ্গিকে সাজানো হয়েছে। শেষ করা হয়েছে ধোয়ামোছা, সাফসুতর ও রংতুলির কাজ। স্মৃতিসৌধের মূল ফটক থেকে সৌধ স্তম্ভ পর্যন্ত ইটেরগাথুনিগুলোতে দেওয়া হয়েছে লাল-সাদা রঙয়ের আঁচড়। পায়েহাঁটার পথগুলোর দুই পাশে বসানো হয়েছে লাল টকটকে ফুল গাছের টব। লাল-সবুজের আভায় সেজেছে পুরো স্মৃতিসৌধ এলাকা।
তিনি আরও বলেন, ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উনাদের সামরিক সচিবগণ প্রথমে ফুল দেবেন। এরপর স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, কূটনৈতিক, রাজনৈতিক ও সরকারি কর্মকর্তারা ফুল দেওয়ার পর স্মৃতিসৌধ সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনেই সবকিছু করতে হবে। সুতরাং আমরা অনুরোধ করবো, যারাই ফুল দিতে এখানে আসবেন তারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফুল দেবেন।
ঢাকার জেলার পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, বিজয় দিবস উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাড়কের পাশে সাভারের নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন। পরবর্তীতে ১০৮ একর জায়গা নিয়ে লেক ও বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়ের মধ্যে নির্মাণ করা হয় স্মৃতিস্তম্ভ ও দশটি গণ সমাধিসহ বেশ কিছু স্থাপনা।







