জয় বাংলা ধ্বনিতে কিশোরগঞ্জে বিজয় নিশান উড়েছে ১৭ ডিসেম্বর

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:১৮আপডেট : ১৭ ডিসেম্বর ২০২০, ২১:২১

কিশোরগঞ্জে বিজয় ভাস্কর্য বিজয়’৭১

আজ ১৭ ডিসেম্বর। কিশোরগঞ্জ হানাদার মুক্ত দিবস। ১৬ ডিসেম্বর সেই বিজয়ের স্বাদ নিতে পারেনি কিশোরগঞ্জবাসী। সেদিনও কিশোরগঞ্জ শহর ছিল স্থানীয় দোসরদের শক্ত ঘাঁটি। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধাদের তীব্র প্রতিরোধে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় স্থানীয় আলবদর-রাজাকারের দল। তারপর কিশোরগঞ্জে জয় বাংলা ধ্বনিতে বিজয় নিশান উড়েছে ১৭ ডিসেম্বর।

সারারাত মুক্তিযোদ্ধাদের সাঁড়াশি আক্রমণ ও গোলাগুলিতে বিনিদ্র রাত কাটায় শহর ও শহরতলির লোকজন। পরদিন সকালে সে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তটি ঘনিয়ে আসে। অবশেষে শহরের চারদিক থেকে চতুর্মুখী আক্রমণ করে ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা পাকবাহিনী হানাদারদের হটিয়ে মুক্ত করে কিশোরগঞ্জকে। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলার মুক্তিকামী সূর্যসেনারা কিশোরগঞ্জের মাটিতে উত্তোলন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা গভীর রাত পর্যন্ত পাক বাহিনীর দোসরদের সঙ্গে প্রচণ্ড লড়াই চলে। চারিদিকে গোলাগুলির শব্দ আর স্বাধীনপ্রেমী মানুষের বাঁচার আর্তনাদ। এরমধ্যেই মুক্তিসেনারাও চালিয়ে যায় আক্রমণ, ঝরিয়ে যায় রক্ত। ১৭ ডিসেম্বর সকালে বিজয়ের স্বাদ পেয়ে মুক্তিসেনাদের মুখে জয় বাংলা স্লোগান স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে চারপাশ। পাকশত্রু মুক্তির সেই আনন্দে শামিল হয় শান্তিপ্রিয় জনতা। স্বজন হারানোর ব্যথা ভুলে হাজার হাজার উৎফুল্ল জনতা নেমে আসে রাস্তায়।

কিশোরগঞ্জে বিজয় ভাস্কর্য বিজয়’৭১

স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর গঠিত বাংলাদেশের প্রথম সরকারের (অস্থায়ী সরকার) উপ রাষ্ট্রপতি শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের বাড়ি শহর থেকে চার কিলোমিটার দক্ষিণে যশোদল ইউনিয়নে। তাই হয়তো ঘাতকের দল ঐ এলাকার মানুষদের টার্গেট করে। ১৩ অক্টোবর স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে তাদের রক্ষা করার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে আশপাশের গ্রাম থেকে প্রায় ছয় শতাধিক মানুষকে একসঙ্গে আলোচনার কথা বলে বড়ইতলায় জড়ো করে। এরপর সেখানে অস্ত্র হাতে হাজির হয় ধূর্ত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর সদস্যরা। গুলিবর্ষণ ও বেয়নেট চার্জ করে খুন করে ৩৬৫ জন নিরীহ মানুষকে। সেখান থেকে কোনও রকমে বেঁচে যাওয়া সেদিনের কিশোর সিরাজুল ইসলাম মানিক সেই ঘটনায় তার বাবাসহ অনেক আত্মীয়-স্বজন হারিয়ে ফেলেন। এমন ঘটনার সাক্ষী আছেন আরও অনেকে।

জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভারপ্রাপ্ত ডেপুটি কমান্ডার ভূপাল নন্দী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, ১৭ ডিসেম্বর সকাল ৯টায় কমান্ডার কবীর উদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের একটি দল শহরের পূর্ব দিক দিয়ে বিজয় ধ্বনিতে কিশোরগঞ্জ শহরে প্রবেশ করে। তারপর শহরের বিভিন্ন প্রবেশ পথ দিয়েও মুক্তিযোদ্ধারা দলে দলে শহরে আসতে থাকে। মুক্তিযোদ্ধাদের অভিযানের খবরে মুক্তিকামী জনতাও উল্লাস করে স্বাধীনতার শ্লোগান দিয়ে রাস্তায় নেমে আসে। সামান্য প্রতিরোধের পরই পাকবাহিনীর এদেশীয় দোসররা আত্মসমর্পণ করে। শহরের শহীদী মসজিদ প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে অস্ত্র সমর্পণ করে পাকবাহিনীর দোসররা। এভাবেই বিজয় দিবসের একদিন পর ১৭ ডিসেম্বর কিশোরগঞ্জের আকাশে উঠে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।

 

/টিএন/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
রাস্তায় তোশক আর মুখে মুখ, দিল্লির আগুনে যেভাবে ‘হিরো’ হলেন স্থানীয়রা
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সান মারিনোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে আনতে চায় বাংলাদেশ 
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী