গাজীপুরের শ্রীপুরের তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ এলাকায় আজিজ কেমিক্যাল গ্রুপের এ এস এম কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কোম্পানি লিমিটেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একজন নিহত এবং কমপক্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গাজীপুর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে কারখানার ৭ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। গাজীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানায়, ঘটনার সময় বিকট শব্দে কারখানার আশপাশের কমপক্ষে অর্ধশতাধিক বহুতল ভবনের জানালার গ্লাস ভেঙে পড়েছে। এতে বিভিন্ন ভবনের লোকজন আহত হয়েছেন। বিকট শব্দের সঙ্গে কালো ধোয়া ও আগুন পুরো ভবনটিতে ছড়িয়ে পড়ে। ঝাঁঝালো গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বিষাক্ত হয়ে ওঠে।
শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিয়া রাজ হোসেন জানান, কারখানার সাত তলা ভবনের পুরোটাতেই কেমিক্যাল উৎপাদন ও সংরক্ষণ করা হতো। হাইড্রোজেন পারক্সাইডের সংরক্ষিত স্টোরেজ বিস্ফোরণ হয়ে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ওই ভবনের প্রত্যেক তলায় নানা ধরনের কেমিক্যাল সংরক্ষণ করা হতো। অগ্নিকাণ্ডের সময় কমপক্ষে ২২ জন শ্রমিক ওই ভবনে ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নিরূপণ করা যায়নি।
মাওনা চৌরাস্তা আল হেরা হাসপাতালের চিকিৎসক রেজবাউল হাসান জানান, ওই কারখানা থেকে ১৬ জনকে তাদের হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত ইসতিয়াক আলী (৫০), আশরাফুল ইসলাম (৩০), মনির হোসেন (৩৫), আমিনুর ইসলাম (৩৮), সুজাউল হক (৩৩) এবং সিলবেসতাকে (২৫) ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতাল এবং জামিল ভূঁইয়া (৪১), আকতার উজ্জামান (২৫), শাওন (৩০), নাঈম ইসলাম (২০), রুকনুজ্জামান (২১), টুটন মিয়া (৪৮), আবির হোসেন (২১), ওয়াসিম (৪০) এবং স্বপন মিয়াকে (২৫) আল হেরা হাসপাতালের চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে। একজনকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তার পরিচয় জানা যায়নি।
কারখানার মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা সোহেল রানা জানান, শুনেছি ৫-৬ জনের মতো আহত হয়েছেন। অগ্নিকাণ্ডের পর আহতদের কাউকে দেখা যায়নি। কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, রাত পৌনে ১১ টায় ভবনের নিচতলা থেকে আলমগীর হোসেন নামে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) এস এম তরিকুল ইসলাম জানান, অতিরিক্ত জেলা আবুল কালামকে প্রধান করে ৫ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটিকে পরবর্তী সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।







