একদিকে ১৯৭১ সালে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ অস্বীকার, আরেকদিকে বিচারের মুখোমুখি করায় বর্তমান সরকারকে হুমকি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন নিজামী। অভিযোগ গঠনের পর ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, কোনও সরকারই শেষ সরকার নয়। পরবর্তী সময়ে বিচারকালে তিনি আর কোনও বাক্যব্যয় না করলেও সেদিন তিনি অভিযোগ গঠনের পর দেওয়া বক্তব্যে নিজের এবং তার অনুসারীদের মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে কোনও সম্পৃক্ততা ছিল না বলে দাবি করেন। যদিও সাক্ষ্য প্রমাণের পর তার অপরাধ প্রমানিত হয় এবং ট্রাইব্যুনাল ১ তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় শুনিয়েছিলেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে নিজামী নিজেকে দোষী মনে করেন কিনা—অভিযোগ গঠনের আগে ট্রাইব্যুনালের এমন প্রশ্নের জবাবে নিজামী বলেন, মহামান্য আদালত, আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই, মুক্তিযুদ্ধে সময়ে আমার অনুসারীরা রাজনীতি বা অন্য কোনও কিছুর সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ রকম রক্তাক্ত গণহত্যার মতো কোনও পরিস্থিতি তৈরিতে আমার কোনও সংশ্লিষ্টতা ছিল না।
তিনি দালিলিক প্রমাণ অস্বীকার করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংবাদপত্রে প্রকাশিত আমার সব বিবৃতি আমার নিজের নয়। মুক্তিযুদ্ধে আমার রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল। মানবতার বিরুদ্ধে কোনও অনৈতিক বিষয়ে ও কর্মকাণ্ডে আমি নিজে কখনও জড়িত ছিলাম না। উল্লিখিত কোনও ঘটনাই আমার সামনে, আমার জানামতে বা আমার সম্মতিতে ঘটেনি। জুলফিকার আলী ভুট্টো ওই গণহত্যার নেতৃত্ব দিয়েছেন।
নিজামী মনে করেন, তার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে রাজনৈতিক কারণে। তিনি বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে যোগদানের পর আমি আলোচনায় উঠে আসি। ১৯৯২ সালে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার পর আমাকে নিয়ে কথা শুরু হয়। দেশের মন্ত্রী হওয়ার পর আবারও আমাকে নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি সরকার ও ট্রাইব্যুনালকে সরাসরি হুমকি দিয়ে বলেন, কোনও সরকারই শেষ সরকার নয়। একইভাবে, পৃথিবীতে কোনও বিচারই শেষ বিচার নয়। আপনাদেরও বিচারক আল্লাহর বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। সঠিক বিচারের বিষয়ে একটিসহ দুটি হাদিস উল্লেখ করে ট্রাইব্যুনালের বিচারকরা সবচেয়ে ভালো বিচারক হবেন সেই প্রার্থনা করে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।
এর আগে অভিযোগ গঠনের প্রার্থনা জানিয়ে প্রসিকিউর সৈয়দ হায়দার আলী বলেন, আসামি মতিউর রহমান নিজামী মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের ৪টি স্থানে বক্তৃতার মাধ্যমে আল-বদর, আল-শামস বাহিনীকে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য উস্কে দিয়েছেন। যদিও নিজামী এর জবাবে বলেন, তিনি কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। নিজামীর আইনজীবী মিজানুল ইসলাম বলেন, আমাদের বক্তব্য হচ্ছে উনি কখনোই আল-বদর বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন না, বা প্রধান থাকার তো প্রশ্নই নেই। তিনি একাত্তর সালের ইসলামী ছাত্রসংঘের সভাপতি ছিলেন সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত। তারপর তিনি ছিলেন সাধারণ একজন নাগরিক। তবে উনার ভূমিকা ছিল রাজনৈতিক। তিনি অখণ্ড পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন। কিন্তু কোনও অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন না। এমনকি আপিলের শুনানির সময় তারা অপরাধ স্বীকার করে নিয়ে বয়সের বিবেচনায় তার ফাঁসির দণ্ডাদেশ কমানোর আবেদন করেন।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আটক জামায়াতের এই নেতার বিরুদ্ধে ১৬ টি ঘটনায় অভিযোগ গঠন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল১ এর তৎকালীন চেয়ারম্যান বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল নিজামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেন। বিচার প্রক্রিয়া শেষে তাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
/ইউআই/এমএনএইচ/
আপ-এসটি








