রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে করোনার উপসর্গ নিয়ে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাতের বিভিন্ন সময় তাদের মৃত্যু হয়। এর মধ্যে আইসিইউতে একজন এবং ২৯ ও ৩০ নম্বর করোনা ওয়ার্ডে মারা যান চার জন।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন– আবুল হোসেন (৫০), মিলন (৬৬), আব্দুল কুদ্দুস (৭৩), আব্দুল মালেক (৬৮), শরিফুল ইসলাম (৭২)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রামেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, মৃত পাঁচ ব্যক্তির শ্বাসকষ্টসহ করোনার সব উপসর্গ ছিল। তাদের নমুনা সংগ্রহ করার পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৪৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় আইসিইউতে রাখা হয়েছে আট জনকে। এছাড়াও করোনা উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৩৯ জন। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. হাবিবুল আহসান জানান, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ২০১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ৪১ জন, নওগাঁয় দুই জন, নাটোরে ১৯ জন, জয়পুরহাটে তিন জন, বগুড়ায় ৯১ জন, সিরাজগঞ্জে ২৮ জন ও পাবনায় ১৭ জন রয়েছেন। একই সময় বগুড়ায় একজন ও পাবনায় একজন করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যান।
এর আগে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে সোমবার (৫ এপ্রিল) ও মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) চার জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হচ্ছেন– রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার আরিফুল (৪৩), নওগাঁ জেলার রাজ্জাক (৬০), নগরীর দড়িখরবোনা এলাকার রেজাউল করিম ও সালেক (৬০)। এছাড়াও বুধবার (৭ এপ্রিল) বাংলাদেশ রেস্তোঁরা মালিক সমিতি রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য তারিকুল ইসলাম শেপ (৫৩) করোনায় রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ২৮ মার্চ রামেক হাসপাতালের চিকিৎসক এমএ হান্নানসহ (৪৯) আরেকজনের মৃত্যু হয়। এভাবেই দিনে দিনে করোনা করোনা রোগী ও করোনায় মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ফেরদৌস জানান, করোনার সংক্রমণ গত কয়েক সপ্তাহের চেয়ে এখন অনেক বেশি। হাসপাতালের ২৫ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডটি করোনা রোগীদের জন্য নতুন করে করা হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে চিকিৎসার সরঞ্জাম। রোস্টার করে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। তবে কেবিন ও আইসিইউতে রোগী পরিপূর্ণ হয়ে গেছে।








