কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবু হানিফার বিরুদ্ধে ঈদ উপলক্ষে কর্মহীন মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া জেনারেল রিলিফের (জিআর) টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে টাকা বিতরণে অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় নতুন করে জিআরের টাকা বিতরণের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (২০ মে) জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তবে নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু হানিফা দাবি করেন, ঈদের আগেই তিনি জিআর ক্যাশ বিতরণ করেছেন।
জানা গেছে, কর্মহীন মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া জিআর ক্যাশ ঈদের আগেই বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু চিলমারী উপজেলার নয়ারহাট ইউনিয়নের ৬২৫ জন মানুষের জন্য বরাদ্দ টাকা মাস্টাররোল অনুযায়ী বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে গত ১২ মে এলাকাবাসীর পক্ষে জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ করেন ওই ইউনিয়নের ১১ বাসিন্দা। অভিযোগপত্রে তারা দাবি করেন, জেনারেল রিলিফের বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করেছে নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন অভিযোগকারীরা।
গত ৫ মে চূড়ান্ত হওয়া ২নং নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের জিআর বরাদ্দের মাস্টার রোলের তালিকায় ক্রমিক নং ২ ও ৩ এ রয়েছেন রিপন ও মর্জিনা দম্পতি। তারা নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডের রমনা মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। রিপন মোবাইল ফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘তালিকায় আমার ও আমার স্ত্রীর নাম থাকলেও কোনও টাকা পাইনি আমরা।’ তবে ঈদের আগে মোবাইল ফোনে মেসেজ এসেছিল বলে জানান তিনি। এছাড়াও তালিকায় ১১নং ক্রমিক নম্বরে থাকা ১নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আয়শা বেগম, ৬১৭নং ক্রমিক নম্বরে থাকা আবুল হোসেন একাধিক ব্যক্তি টাকা না পাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নয়ারহাট ইউনিয়নে সরেজমিন তদন্তে যায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত দল। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক (ডিডিএলজি) জিলুফা সুলতানা এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ডিআরআরও) আব্দুল হাই সরকার ঘটনাস্থলে গিয়ে জিআর বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পান। তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যানকে পুনরায় জিআর ক্যাশ বিতরণের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২০ মে) নতুন করে জিআর ক্যাশ বিতরণ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান।
নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শফিকুর রহমান বলেন, ‘জিআরের জন্য বরাদ্দ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ঈদের আগে ৬২৫ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।’
ঈদের আগে জিআর ক্যাশ বিতরণ হয়ে থাকলে নতুন করে কোন টাকা বিতরণ হচ্ছে, এমন প্রশ্নের জবাবে ইউপি সচিব বলেন, ‘জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আবারও বিতরণ হচ্ছে।’ এই টাকার উৎস কী, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না, সম্ভবত চেয়ারম্যানের নিজস্ব তহবিল থেকে বিতরণ হচ্ছে। আপনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলুন।’
জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আবু হানিফা বলেন, ‘ঈদের আগের দিন জিআরের বরাদ্দ দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা ৬২৫ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। এরপর একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত হয়। তারপর আমাকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নতুন করে বিতরণের জন্য নির্দেশনা দেন। আজকের (বৃহস্পতিবার) মধ্যে সম্পূর্ণ অর্থ বিতরণ করা হবে।’
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘ঈদের আগে করা তালিকায় বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে আমরা বিষয়টি তদন্ত করি। তদন্তে তালিকায় নাম থাকা কিছু মানুষ টাকা পাননি বলে সত্যতা পাওয়া যায়। এজন্য নতুন করে জিআর ক্যাশ বিতরণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যা বৃহস্পতিবারের মধ্যে বিতরণ শেষ করতে বলা হয়েছে।’








