রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ডেডিকেটেড করোনা ইউনিটে একটি শয্যাও খালি নেই। মঙ্গলবার (২৯ জুন) হাসপাতালের সাধারণ ওয়ার্ড, কেবিন মিলে ২১০ এবং ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটের (আইসিইউ) ১৩ শয্যার সবকটিতেই রোগী ভর্তি আছেন। এদিকে করোনা ইউনিটে চাহিদার অর্ধেক ডেডিকেটেড চিকিৎসক দিয়ে চলছে চিকিৎসাসেবা।
হাসপাতালের করোনা বিষয়ক ফোকাল পারসন ডা. মহিউদ্দিন খান মুন জানান, অর্ধেক জনবল দিয়ে করোনা আক্রান্ত কিংবা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে সাধারণ ওয়ার্ড থেকে কর্মরত চিকিৎসকদের এনে সেই অভাব পূরণ করা হচ্ছে। করোনা ইউনিটের পাঁচটি ফ্লোরে প্রতিদিন তিন শিফটে ৪০ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে করোনা ডেডিকেটেড চিকিৎসক আছেন মাত্র ১৯ জন। বাকি ২১ জনের স্থলে সাধারণ ওয়ার্ডে কর্মরতদের এনে সেবার কাজ করাতে হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে কোনও শয্যা খালি নেই। তবে আপদকালীন সময়ে করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও ২১টি শয্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, ‘এক হাজার শয্যার হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। ফলে জনবল সংকট নিয়েই সার্বিক চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কাজ চলছে। এই হিসেবে করোনা ইউনিটেও জনবল সংকট আছে। তবে কর্মরত চিকিৎসকদের আন্তরিকতায় খুব সুন্দরভাবেই চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভর্তিকৃতরা রোগীরা হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা পেয়ে আসছেন। চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা নেই।’
করোনা ইউনিটের সপ্তম তলার নারী ওয়ার্ডে করোনা আক্রান্ত এক রোগীর স্বজন আসলাম জানান, ওয়ার্ডে কোনও শয্যা খালি নেই। চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কোনও কমতি নেই। সবাই খুবই আন্তরিক। সব ওষুধ হাসপাতালে পাওয়া যাচ্ছে এবং রোগীকে দেওয়া খাবারও মানসম্মত।
একই ফ্লোরে ২৮ নম্বর কেবিনের রোগীর স্বজন বিলকিস আক্তার জানান, চিকিৎসক ও নার্স রোগীর কাছে এসেই চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তিন বেলা চিকিৎসক রোগীর খোঁজ খবর নিয়ে থাকেন। নার্সরা ২৪ ঘন্টা ডিউটিতে থাকেন, যেকোনও সময় ডাকলেই পাওয়া যায়। তবে বর্তমানে কোনও কেবিন খালি নেই। রাতে দিনে নতুন নতুন রোগী আসছেন।









