কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীতে আকস্মিক পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের প্রায় চার কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার ভাঙনে কয়েক হাজার একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হুমকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন খুঁটি ও প্রায় ২০ হাজার মানুষ। এলাকাবাসী ভাঙনরোধে দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেছেন।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া, ভুরকাপাড়া ও কোলদিয়াড় এলাকায় ভাঙনে বসতবাড়ি ও বিস্তীর্ণ এলাকার আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে ভুরকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, নদীভরাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় কান্দিরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কোলদিয়াড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, হাটখোলাপাড়া জামে মসজিদ, জুনিয়াদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও জুনিয়াদহ বাজারসহ অসংখ্য ঘর-বাড়ি।
স্থানীয় ৯নং ওয়ার্ডের হাটখোলাপাড়া এলাকার হাসানুজ্জামান রাজা জানান, হঠাৎ করে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় প্রায় চার কিলোমিটার এলাকা জুড়ে নদী ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে অচিরেই বহু ঘরবাড়ি নদীতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই কথা জানান ওই এলাকার আরও অনেকে। তাদের প্রত্যেকের আবাদি জমির উঠতি ফসল বাদামসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল নদীগর্ভে চলে গেছে। এখন ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
মরিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলমগীর জানান, মরিচা ইউনিয়নের হাটখোলাপাড়া, ভুরকাপাড়া ও কোলদিয়াড় তিনটি ওয়ার্ডে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের ফলে কয়েক হাজার বিঘা জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙন আতঙ্কে রয়েছে তিনটি ওয়ার্ডের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। হুমকির মুখে রয়েছে রায়টা-মহিষকুণ্ডি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সঞ্চালন খুঁটি, সাতটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও কয়েকটি মসজিদসহ সরকারি স্থাপনা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
ইতোমধ্যে ভাঙনকবলিত ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আফছার উদ্দিন।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আ ক ম সরওয়ার জাহান বাদশাহ্ জানান, ভাঙনরোধে জরুরি ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ ও স্থায়ী সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ভাঙন ঠেকাতে নদী তীরবর্তী বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে তা রোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়াও ওইসব এলাকায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও জানান, পদ্মার ভাঙন রোধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।









