রঞ্জন জানায়, ঢাকায় থাকা-খাওয়াসহ লেখাপড়ার খরচ বহন তো দূরের কথা, ভর্তির টাকাই যোগাড় করতে পারছে না তার গরিব বাবা-মা।
বাবা রমেশ চন্দ্র রায় জানান, ‘স্ত্রী আর দুই ছেলে নিয়ে আমার পরিবার। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালাই। দুই ভাইয়ের মধ্যে রঞ্জন বড়। পরিবারের শেষ সম্বল বলতে বসত ভিটার ১০ শতাংশ জমি আছে। ছোট ছেলে চন্দন রায় ২০২২ সালে এসএসসি দেবে। এসব খরচ চালাবো কী করে জানি না।’
এদিকে আধপেট খেয়ে পড়াশোনা করেছিল রঞ্জন। পিইসি, জেএসসি থেকে সব পরীক্ষাতেই ভালো ফল করেছিল। এসএসসি ও এইচএসসিতেও মির্জাগঞ্জ মহাবিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ও।
এলাকাবাসী জানায়, প্রাইভেট পড়া তো দূরের কথা; কাগজ, কলম কেনার টাকাও ছিল না তার। না খেয়েও ক্লাস করেছে অনেক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ সম্মান শ্রেণিতে ‘খ’ ইউনিটে রঞ্জনের ভর্তি পরীক্ষার রোল নম্বর ২৪০৫২২৫, সিরিয়াল ৮৪০১৩৫৮। ভর্তি পরীক্ষায় ১৮৮০তম হয়েছে। সেই অনুযায়ী ২৬ ডিসেম্বর কলা অনুষদের সংস্কৃত বিভাগে ভর্তির জন্য মনোনীত হয়েছে ও।
রঞ্জন বললো, ‘ভর্তি ও যাবতীয় খরচ বাবদ প্রায় হাজার বিশেক টাকা দরকার। চেষ্টা করেও যোগাড় করতে পারছে না পরিবার। আবার ভর্তির পর লেখাপড়া শেষ করা পর্যন্ত টাকাই বা যোগাড় করবো কী করে।’
রঞ্জনের বাবা জানান, পরের বাড়িতে একবেলা কাজ করে ৩০০ টাকা পাই। তা দিয়ে সংসার চলে। কোনও দিন আবার সেটাও জোটে না। করোনার সময় ধার-দেনা করতে হয়েছে অনেক। সেটাও পরিশোধ করতে পারিনি। মির্জাগঞ্জ দ্বিমুখি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এএসএম আব্দুল কাদের বলেন, রঞ্জন আমাদের বিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে সে হয়তো পড়াশোনা চালাতে পারবে।
ডোমার মির্জাগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ মো. আনোয়ার হোসেন হামিদ বলেন, নিঃসন্দেহে সে মেধাবী ছাত্র। শুনেছি আপাতত তার হাজার বিশেক টাকা লাগবে। তবে পরে পড়া চালিয়ে যেতেও টাকার দরকার। সহায়তা পেলে সে দেশের জন্য অবদান রাখতে পারবে বলে বিশ্বাস করি।
রঞ্জনের সঙ্গে যোগাযোগের নম্বর: ০১৭৬৭৫৫৫০৬৭।









