স্বামীকে হাত-পা বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সেই নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ভিডিও কল দিয়ে স্ত্রীকে দেখিয়ে মুক্তিপণ দাবি করে একটি চক্র। পরে র্যাব অপহরণকারী চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করে এবং তার অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি কুমিল্লার বিবির বাজার এলাকার। শুক্রবার (১৫ এপ্রিল) রাতে এ অভিযান পরিচালনা করে র্যাবের একটি দল। শনিবার বিকাল ৪টায় র্যাব-১১-এর কুমিল্লা কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
মেজর সাকিব হোসেন জানান, গত ১৩ এপ্রিল কুমিল্লা র্যাব অফিসে এসে লিজা বেগম (৩৪) নামে এক নারী একটি লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ১১ এপ্রিল কুমিল্লার বিবির বাজার এলাকায় তার স্বামী রমজান বন্ধুর বাসায় বেড়াতে যান। ওইদিন সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে তার স্বামীর মোবাইল ফোন নম্বর বন্ধ পান। তার বন্ধু রাকিব জানান, রমজান সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের বাসায় পৌঁছাননি। পরে একটি নম্বর থেকে ভিডিও কলে তার স্বামীকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় মারধর করার দৃশ্য দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে চক্রটি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে র্যাব ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বিবির বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে অপহরণ চক্রের তিন জনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
গ্রেফতার আসামিরা হলো– জেলার আদর্শ সদর উপজেলার গাজীপুর গ্রামের মোতাহার হোসেন (৩০) ও সায়মুন (১৯) এবং রাজমঙ্গলপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেন (৪১)।
আটক আসামিদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালি মডেল থানাধীন জগন্নাথপুর ইউনিয়নের গাজীপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহৃত ভিকটিম রমজান হোসেনকে (৩৫) উদ্ধার করা হয়।
তখন র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা মাদককারবারি শাহিন ওরফে স্টার শাহিন (৪০) এবং তার সহযোগী রুবেল (৩৫), জাকির (৪১) অপহৃতকে একটি গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে রেখে পালিয়ে যায়।
উদ্ধার হওয়ার পর রমজান আলী জানান, গত ১১ এপ্রিল তিনি কুমিল্লার বিবির বাজার এলাকায় বন্ধু রাকিবের বাসায় বেড়াতে আসে। সেখানে রাকিবের বন্ধু শাহিন এবং রুবেলের সঙ্গে আগে থেকেই পরিচয় ছিল। পূর্ব পরিচয়ের সুবাদে শাহিনের সঙ্গে বিবির বাজার সীমান্তে এলাকায় ঘুরতে যান রমজান। সেখানে তারা ইফতার করেন। ইফতার শেষে চলে আসার সময় মাদক ব্যবসায়ী শাহিন ও তার সহযোগীরা তাকে বাধা দেয় এবং বলে এভাবে যাওয়া যাবে না। এখান থেকে মুক্তি পেতে হলে তোমাকে মুক্তিপণ দিতে হবে। এই বলে ভিকটিমকে হাত-পা বেঁধে মারধর করে এবং নির্যাতনের দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে।
পরে গ্রেফতার ব্যক্তিদের কুমিল্লা কোতয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়।
কোতয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সহিদুর রহমান জানান, গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।








