ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের হাওরে উজান থেকে নেমে আসা বানের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে গেছে। গত দু’দিন ধরে আশেপাশের নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় জমি তলিয়ে যাচ্ছে। পানি বাড়লে আরও ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এলাকাবাসী ও কৃষকরা জানান, গত দুই দিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পানির তোড়ে নাসিরনগর হাওরাঞ্চলের আধাপাকা ধানের জমি তলিয়ে গেছে। বিশেষ করে মেঘনা, লঙ্গর ও বলভদ্র নদীতে অব্যাহতভাবে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রমশ নিম্নাঞ্চলের ধানিজমি তলিয়ে যাচ্ছে। এতে হাওরপারের বাসিন্দাদের একমাত্র ফসল বোরো ধান হারিয়ে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত ৪০ হেক্টর জমির আধাপাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তবে স্থানীয় কৃষকদের হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ আরও কয়েকগুণ বেশি হবে। দ্রুত পানি না নামলে আরও বেশি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। সোমবার দুপুর নাগাদ উপজেলার গোয়ালনগর, নাসিরপুর, টেকানগর, তিফাতনগর এলাকার ধানি জমি পানিতে তলিয়ে যায়।
গোয়ালনগর গ্রামের মরফত আলী বলেন, ‘আমাদের স্বপ্নের ফসল আজ পানির নিচে। ভাবতেই পারিনি, দুই দিনের ব্যবধানে আধাপাকা ধানগুলো এভাবে পানিতে তলিয়ে যাবে। বছরের একটি মাত্র ফসল আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন। এখন কী করবো বুঝতে পারছি না।’
নাসিরপুরের রমিজ উদ্দিন বলেন, ‘পানি বাড়তাছে। গাঙ্গের পানি এমনে বাড়লে সব জমি পানির তলে যাইবো গা।’
নাসিরনগর উপজেলা কৃষি অফিসার আবু সাঈদ তারেক সোমবার বিকালে সাংবাদিকদের বলেন,‘পানি বাড়ার বিষয়ে পূর্বাভাস থাকায় অন্তত ৮০ ভাগ ধান পাকলেই কৃষকদের ধান কাটতে বলা হয়। এ অনুযায়ী যারা ধান কেটেছেন তাদের সমস্যা হয়নি। সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী নদী এবং হাওরপাড় সংলগ্ন ৪০ হেক্টরের মতো ধানি জমি তলিয়ে গেছে।’
পানিবৃদ্ধি অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।









