মোবাইল ফোনে রংপুরের বদরগঞ্জে ডেকে এনে দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একান্ত সহকারী আব্দুল মজিদকে হত্যা করা হয়েছে। পরে লাশ হাসপাতালে ফেলে রেখে পালিয়ে গেছে খুনিরা। এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানার পুলিশ হত্যা মামলা না নিয়ে ইউডি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা সাইদার মেম্বারকে থানায় ধরে এনে দুই দিন আটকে রেখে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে তাকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
নিহত আব্দুল মজিদের বাড়ি দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার জমিরহাট এলাকার তকেয়াপাড়া গ্রামে। পরিবারের দাবি, আর্থিক লেনদেনের কারণে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এদিকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে সাইদার মেম্বারকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে সমালোচনার মুখে পড়ে পুলিশ। পরে পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে পাঁচ দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাইদার মেম্বারকে ফের বাসা থেকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। বদরগজ্ঞ থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আব্দুল মজিদের স্ত্রী বিলকিস বেগম এবং তার বাবা মজিবর রহমানের অভিযোগ, নিহত মজিদের সঙ্গে গভীর সখ্যতা ছিল রংপুরের বদরগজ্ঞ উপজেলার রামনাথপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার সাইদার আলীর। এ কারণে তাদের মধ্যে প্রায়ই আর্থিক লেনদেন হতো। এরই অংশ হিসেবে সাইদার মেম্বার নানা অজুহাতে আব্দুল মজিদের কাছ থেকে কৌশলে ২৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। কিন্তু সে আব্দুল মজিদকে ওই টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়ে খোলাহাটী ডিগ্রি কলেজের কাছে তার নিজ নামে থাকা জমি লিখে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই জমি লিখে না দেওয়ায় বেশ কিছুদিন ধরে তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল।
এ অবস্থায় গত ২৮ মে নিহত মজিদকে ফোন করে জমির বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য বদরগঞ্জে ডেকে আনেন সাইদার মেম্বার এবং আবু সাঈদ নামের দুই ব্যক্তি। এরপর তাকে অন্যদের সহায়তায় অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যার পর লাশ বদরগজ্ঞ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে পালিয়ে যায় খুনিরা।
এ ঘটনার পর পুলিশ নিহত আব্দুল মজিদের পরিবারের মামলা না নিয়ে একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করে। এছাড়া ফোন কলের সূত্র ধরে বদরগঞ্জ থানা পুলিশ সাইদার মেম্বারকে আটক করে। একদিন ও এক রাত জিজ্ঞাসাবাদে সাইদার মেম্বার চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেও রহস্যজনক কারণে তাকে ছেড়ে দেন ওসি হাবিবুর রহমান। এজন্য মোটা অংকের টাকা উৎকোচ নেন তিনি।
সার্বিক বিষয়ে বদরগজ্ঞ থানার ওসি হাবিবুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে বাংলা ট্রিবিউন। তবে প্রথমে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। পরে জানান, যেহেতু ইউডি মামলা হয়েছে সেহেতু একই ঘটনায় নতুন করে আর মামলার প্রয়োজন নেই। এ কারণে পরিবারের অভিযোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি স্বীকার করেন, সাইদার মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে কোনও আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে মোটা অংকের টাকা ঘুষ নিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাইদার মেম্বারকে ধরে এনে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় শুরু হয়। কেন হত্যা মামলা না নিয়ে অপমৃত্যু মামলা নেওয়া হলো; এসব নিয়ে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়।
পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে পুলিশ পাঁচ দিন পর অবশেষে সাইদার রহমানকে বাসা থেকে থানায় ডেকে নেয়। বদরগজ্ঞ থানার ওসি (তদন্ত) নুর আলম ছিদ্দিক, সাইদারকে বাসা থেকে ডেকে নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।









