রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামের সংস্কার কাজের নকশা দিতে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিল্যান্স টিম বলছে, তাদের পক্ষ থেকে একাধিকার ডিজাইন চাওয়া হলেও নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন ঠিকাদার। এমনকি প্রকল্প পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাইট ইঞ্জিনিয়ারের কাছেও মেলেনি ডিজাইন।
তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা প্রকল্প পরিচালক ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ারের নির্দেশে নকশা পরিবর্তন করে কাজ করেছে। ফলে কাজ শেষ না হওয়ায় নতুন নকশা দিতে পারেনি। কাজ শেষ হলে তারা ‘এজ বিল্ড’ ডিজাইন জমা দেবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতর সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ রাবির ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩৬৩ কোটি টাকার প্রকল্প পাস হয়। পরে বাজেট সংশোধিত হয়ে ২০১৯ সালে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামের সংস্কার। যার নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছিল ১৬ কোটি টাকা। দুই ভাগে বিভক্ত কাজটির এসি ও অ্যাকুস্টিকের কাজ পায় ঢাকা প্রিমিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। যার নির্মাণব্যয় ধরা হয় ৯ কোটি ১৭ লাখ টাকা। গত বছর কাজ শুরু হয়ে ইতোমধ্যে ৯৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিল্যান্স টিম একবার পরিদর্শন করেছে। কারণ হিসেবে ভিজিল্যান্স টিমের সদস্যরা বলছেন, তারা গিয়ে ডিজাইন দেখতে চান, কিন্তু সেখানকার প্রকৌশলী তাদের ডিজাইন দেখাননি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিজিল্যান্স টিমের এক সদস্য বলেন, ‘যে নকশা অনুসারে ব্যয় ধরা হয়েছিল, ওই নকশা পরিবর্তন করেছে বলে আমরা জানতে পারি। আমরা যখন ভিজিটিংয়ে যাই তখন যেভাবে কাজ করা হচ্ছে সেটির নকশা (এজ বিল্ড নকশা) চাই, কিন্তু তারা দেয়নি। দেবো-দিচ্ছি করে কালক্ষেপণ করেছে। গত ২০ অক্টোবর আমাদের মেয়াদ শেষ হয়েছে। সম্প্রতি ভিজিল্যান্স টিমের নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে নকশা দিয়েছে কিনা জানি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রতি মাসে একবার মিটিং হয়। মিটিংয়ে বিষয়টি আলোচনা হয়েছিল। দুই-তিন মাস আগে একটি সভা থেকে আমাদের ভিজিল্যান্স টিমের আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান প্রামাণিক স্যার প্রকল্প পরিচালককে (পিডি) ফোন করেছিলেন। কিন্তু এখনও কোনও এক অজানা কারণে তারা নকশা দেয়নি। বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সবাই অবহিত। এমনকি উপাচার্যও জানেন।’
ভিজিল্যান্স টিমের আরেক সদস্য বলেন, ‘নকশা ছাড়া তো কাজ ঠিকভাবে হচ্ছে কিনা বুঝতে পারবো না। তাই আমরা একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার ও প্রকল্প পরিচালককে জানিয়েছি। কিন্তু আমরা নকশা পাইনি।’
নকশা চাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে ভিজিল্যান্স টিমের আহ্বায়ক অধ্যাপক ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘প্রকল্প পরিচালকের কাছে আমরা নকশা চেয়েছি, কিন্তু তারা এখনও দেননি। আশা করছি, দ্রুতই পাবো।’
কাজের দেখভালের দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-প্রধান প্রকৌশলী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার কাছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বা ভিজিল্যান্স টিমের কেউ ডিজাইন চাননি। তবে ১০-১৫ দিন আগে প্রকল্প পরিচালক এজ বিল্ড ডিজাইন চেয়েছিলেন। আমি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দ্রুতই ডিজাইন দিতে বলেছি। তারা দিলে আমি প্রকল্প পরিচালকের কাছে জমা দেবো।’
তিনি ডিজাইন পরিবর্তনের বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করলেও এক পর্যায়ে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘অডিটোরিয়ামের মঞ্চটি ডিজাইন অনুসারে হয়নি। কারণ ডিজাইন অনুসারে করলে মঞ্চ ছোট হয়ে যাচ্ছিল। তাই টিএসসিসির পরিচালক ও পিডির সঙ্গে কথা বলে এটা পরিবর্তন করা হয়েছে।’ টিএসসিসির পরিচালকের কথায় ডিজাইন পরিবর্তন করার নিয়ম আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সব সময় ডিজাইন অনুসারে কাজ করা সম্ভব হয় না। অনেক সময় বাস্তবতার সঙ্গে মিল রেখে কাজ করতে হয়।’
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার নিশাদ কুমার তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালকের নির্দেশে আমরা ডিজাইন পরিবর্তন করে কাজ করেছি। সাধারণত কাজ শেষ হয়ে এজ বিল্ড ডিজাইন জমা দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও আমাদের কাজ শেষ হয়নি, তাই দিতে পারিনি। তবে আমাদের কাজ ৯৯ শতাংশ শেষ হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই ডিজাইন দিতে পারবো।’
জানতে চাইলে পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দফতরের পরিচালক প্রকৌশলী খন্দকার শাহরিয়ার বলেন, ‘কিছুদিন আগে কোষাধ্যক্ষ স্যার ফোন করে ডিজাইন চেয়েছিলেন। আমি ওই কাজের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলীকে নকশা দিতে বলেছি। প্রকৌশলী জানিয়েছেন, কাজ করতে গিয়ে ডিজাইনের কিছু পরিবর্তন হয়েছে, ফলে আমাদের এখন এজ বিল্ড নকশা লাগবে। তিনি দ্রুতই জমা দেবেন বলে আশা করছি।’









