সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হকের ৮৭তম জন্ম দিবসে কুড়িগ্রামে দিনব্যাপী ‘সৈয়দ হক মেলা’ আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ ডিসেম্বর) কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ প্রাঙ্গণের বটতলা চত্বরে দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে সৈয়দ শামসুল হক স্মৃতি পরিষদ।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় কলেজের মূল ফটক চত্বরে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ শেষে সকাল ১০টায় মেলার উদ্বোধন করবেন কবিপত্নী ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হক।
সৈয়দ শামসুল হক স্মৃতি পরিষদের আহ্বায়ক ইউসুফ আলমগীরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে থাকবেন কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ, পুলিশ সুপার আল আসাদ মো. মাহফুজুল ইসলাম, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মো. জাফর আলী, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আমান উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু, কুড়িগ্রাম পৌর মেয়র কাজিউল ইসলাম এবং কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মীর্জা মো. নাসির উদ্দিন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেবেন কবিপুত্র দ্বিতীয় সৈয়দ হক।
বেলা ১২টায় মেলায় সৈয়দ শামসুল হকের জীবন ও সাহিত্য নিয়ে থাকবে আলোচনা। থাকবে স্বরচিত সাহিত্য পাঠ, সৈয়দ হকের লেখা থেকে আবৃত্তি, সংগীত পরিবেশনসহ দিনভর বইমেলা। দিনব্যাপী এ মেলার সমন্বয়ক সাম্যে রাইয়ান।
উইকিপিডিয়ার তথ্যানুযায়ী, সৈয়দ শামসুল হক ১৯৩৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর কুড়িগ্রামে জন্ম নেন। ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তার জীবনাবসান হয়। কবিতা, উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, অনুবাদ তথা সাহিত্যের সব শাখায় সাবলীল পদচারণার জন্য তাকে ‘সব্যসাচী লেখক’বলা হয়। তিনি মাত্র ২৯ বছর বয়সে সাহিত্যিকদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী হিসেবে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান।
প্রখ্যাত এ সাহিত্যিক সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন ও হালিমা খাতুন দম্পতির আট সন্তানের প্রথম সন্তান। বাবা সৈয়দ সিদ্দিক হুসাইন পেশায় ছিলেন হোমিওপ্যাথিক ডাক্তার। এক ছেলে ও এক মেয়ের জনক এ লেখক ব্যক্তিজীবনে প্রথিতযশা লেখক ডা. আনোয়ারা সৈয়দ হকের স্বামী।
সৈয়দ শামসুল হকের ভাষ্য অনুযায়ী, তার প্রথম লেখা প্রকাশিত হয় ১৯৫১ সালের মে মাসে। ফজলে লোহানী সম্পাদিত ‘অগত্যা’পত্রিকায়। সেখানে ‘উদয়াস্ত’ নামে তার একটি গল্প ছাপা হয়।
তার শিক্ষাজীবন শুরু হয় কুড়িগ্রাম মাইনর স্কুলে। সেখানে তিনি ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেন। এরপর তিনি ভর্তি হন কুড়িগ্রাম হাই ইংলিশ স্কুলে। এরপর ১৯৫০ সালে গণিতে লেটার মার্কস নিয়ে ম্যাট্রিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
সৈয়দ শামসুল হকের বাবা চেয়েছিলেন ছেলে ডাক্তার হোক। কিন্তু, লেখক হওয়ার স্বপ্নে বিভোর সৈয়দ হক মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়ার বদলে ১৯৫১ সালে বম্বেতে (বর্তমান মুম্বাই) পালিয়ে যান। সেখানে তিনি বছরখানেকের বেশি একটি সিনেমা প্রডাকশন হাউসে সহকারী হিসেবে কাজ করেন। এরপর ১৯৫২ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে জগন্নাথ কলেজে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী মানবিক শাখায় ভর্তি হন। কলেজ পাসের পর ১৯৫৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন। পরবর্তী সময়ে স্নাতক পাসের আগেই ১৯৫৬ সালে সেখান থেকে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখে বেরিয়ে আসেন। এর কিছুদিন পর তার প্রথম উপন্যাস ‘দেয়ালের দেশ’ প্রকাশিত হয়।
তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬৬) ছাড়াও একুশে পদক (১৯৮৪), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৯), অলক্ত স্বর্ণপদক (১৯৮২), আলাওল সাহিত্য পুরস্কার (১৯৮৩), ২০০৭ সালের জেমকন সাহিত্য পুরস্কারসহ অনেক পুরস্কার পেয়েছেন।









