এলজিইডিকর্মীকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে মারপিটের অভিযোগ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৩আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৩, ১১:২৩

কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) এক সার্ভেয়ারকে মোটরসাইকেল থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে। এতে ওই সার্ভেয়ারের বাঁ-হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে গেছে। শুধু তাই নয়, সড়কে পড়ে গিয়ে নিজের পরিচয় দেওয়ায় সার্ভেয়ারকে অকথ্য ভাষায় গলিগালাজ ও কিল-ঘুসি মারারও অভিযোগ উঠেছে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। রবিবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চিলমারী মডেল থানার সামনে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সার্ভেয়ারের নাম তাজুল ইসলাম। তিনি উলিপুর উপজেলার ধামশ্রেণি ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোমতাজ আলীর ছেলে এবং চিলমারী উপজেলা প্রকৌশলীর কার্যালয়ে কর্মরত। আর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের নাম মো. মুনিরুজ্জামান। তিনি চিলমারী মডেল থানায় কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে ভুক্তভোগী সার্ভেয়ার তাজুল ইসলাম বলেন, ‘রবিবার সন্ধ্যায় অফিস শেষে আমার সহকর্মী মহিরকে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাসার উদ্দেশে রওয়ানা হই। সে সময় থানার সামনে এক পুলিশ সদস্য আকস্মিক হাত তুলে আমাকে থামতে বলেন। তখন আমার গাড়ির গতি ঘণ্টায় ৩৫-৪০ কিলোমিটার বেগে ছিল। আমি গাড়ি থামানোর আগেই ওই পুলিশ সদস্য পেছন থেকে আমার সহকর্মী মহিরের গায়ের জ্যাকেট ধরে টান দেন। তখন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আমরা দুজনেই মোটরসাইকেলসহ সড়কের ওপর পড়ে যাই। আমার বাঁ হাত মোটরসাইকেলের নিচে চাপা পড়ায় আমি প্রচণ্ড আঘাত পাই। এ অবস্থায় আমি আমার পরিচয় দিয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে আমাকে তোলার অনুরোধ করি। কিন্তু তিনি আমাকে ওই অবস্থায় রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং আমাকে কিল-ঘুসি মারেন। পরে আমাকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিচু ভাইসহ আমার সহকর্মী উদ্ধার করেন এবং নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি কুড়িগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসককে দেখাই। চিকিৎসক পরীক্ষা করে জানান, আমার কনুইয়ের হাড় ফেটে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওই পুলিশ সদস্য আমাকে সিগন্যাল দিলে আমি গাড়ি থামানোর জন্য প্রস্তুতি নিই। কিন্তু গাড়ি ব্রেক করার আগেই তিনি আমাকে গাড়ি থেকে এভাবে ফেলে দেন। আমি নিজেও একজন সরকারি কর্মচারী। আমি এ ব্যাপারে আমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি আইনগত ব্যবস্থা নেবো।’

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত তাজুল ইসলামকে উদ্ধারে সহায়তাকারী চিলমারী আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম লিচু বলেন, ‘এটা খুবই খারাপ ঘটনা। এভাবে একজন মোটরসাইকেল আরোহীকে ফেলে দেওয়ার কোনও মানে হয় না। ওই পুলিশ সদস্য বেয়াদবি করেছেন। একজন মানুষকে এভাবে টেনে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া মোটেই ঠিক হয়নি।’

তবে নিজের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কনস্টেবল মুনিরুজ্জামান। তিনি বলেন,  ‘এসব মিথ্যা কথা। টেনে ফেলে দেওয়া বা ওই সার্ভেয়ারকে গালিগালাজ কিংবা কিলঘুসি মারার ঘটনা ঘটেনি। বরং তিনি আমাকে মোটরসাইকেল লাগিয়ে দিচ্ছিলেন। আমার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সঠিক নয়।’

চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনর্চাজ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ‘এলজিইডির স্টাফ মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় ব্রেক করতে গিয়ে ওই স্টাফ (তাজুল ইসলাম) পড়ে গিয়েছেন বলে জেনেছি। টেনে ফেলে দেওয়া বা কিল-ঘুসি মারার বিষয়টি জানা নেই।’

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী